১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রেমিটেন্স
চলতি অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরের প্রথম সাত দিনে ৮৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে দেশে।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের চার মাস সাত দিনেই ১২ বিলিয়ন (১ হাজার ২০০ কোটি) ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা।
এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক এখন প্রতিদিনই রেমিটেন্স প্রবাহের তথ্য প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরের প্রথম সাত দিনে (১ থেকে ৭ নভেম্বর) ৮৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে দেশে। এটি গত বছরের নভেম্বরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি।
গত বছর নভেম্বরের প্রথম সাত দিনে এসেছিল ৬৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের চার মাস সাত দিনে (১ জুলাই থেকে ৭ নভেম্বর) এসেছে ১২৩৪ কোটি ৪০ লাখ (১২.৩৪ বিলিয়ন) ডলার।
গত ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের একই সময়ে এসেছিল ১০৮৬ কোটি ৫০ লাখ (১০.৮৬ বিলিয়ন) ডলার। এ হিসাবে চলতি বছর রেমিটেন্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবরে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ (২.৮৭ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা; যা ছিল গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।
তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) ডলার; বেড়েছিল ৩ শতাংশ বেশি।
দ্বিতীয় মাস মাস অগাস্টে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ (২.৯৭ বিলিয়ন) ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।
প্রথম মাস জুলাইয়ে আসে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ (২.৮৬ বিলিয়ন) ডলার; বেড়েছিল ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।
গত বছরের নভেম্বরের পুরো মাসে দেশে রেমিটেন্স এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ (২.৮৯ বিলিয়ন)। এর পর টানা ছয় মাস (ডিসেম্বর-মে) ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিটেন্স আসে দেশে।
দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই রেমিটেন্স প্রবাহে এমন উল্লম্ফন দেখা যায়নি।
একক মাসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত বছরের মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ (৩.৭৫ বিলিয়ন) ডলার; দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪৪ কোটি ২৬ লাখ (৩.৪৪ বিলিয়ন) ডলার আসে মে মাসে। তৃতীয় সর্বোচ্চ আসে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ (৩.২২ বিলিয়ন) ডলার, ডিসেম্বরে।
দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এখন রেমিটেন্সই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, যা সঙ্কটে পড়া অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছে।
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি (৩৫.৫৯ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা; বছরজুড়েই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে উল্লম্ফন ছিল। ১২ মাসের মধ্যে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে এই বছরের ৩০ জুন) ছয় মাসই ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের বেশি এসেছিল।
প্রতি মাসে গড়ে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৫০ লাখ (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার; যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৩ কোটি (২০.৩৩ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস বা মোট হিসাবে ছিল ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।
সবশেষ সেপ্টেম্বর মাসের আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৭ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। সে হিসাবে বর্তমানের ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়।
আকু হল এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যকার একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার ৯টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয় তার মূল্য প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়।
