পার্সেল প্রতারক চক্রের দেশি বিদেশি ১০ ব্যক্তি কারাগারে

এর আগে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তাদের দুদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Sept 2022, 02:11 PM
Updated : 10 Sept 2022, 02:11 PM

ঢাকায় পার্সেল প্রতারক চক্রের গ্রেপ্তার দেশি-বিদেশি ১০ ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ওই মামলায় শনিবার তাদের আদালতে উপস্থাপন করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম মোহনা আলমগীর।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন- সুমন হোসেন ওরফে ইমরান (৩১), মোহসিন হোসেন ওরফে শাওন (৩০), ইমরান হাসান ওরফে ইকবাল (৩০), নাজমুল হক রনি (৩০), মোসা. নুসরাত জাহান (২৪), নাইজেরিয়ান চিডি (৪০), ইমানুয়েল (২৬) ও জন (৩১), অ্যাঙ্গোলিয়ান নাগরিক উইলসন ডে কনসিকাউ (৩৫) ও ক্যামেরুনের নাগরিক গুলগ্নি পাপিনি (৩২)।

গত সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ওয়েব বেজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদিনের রিমান্ড শেষে শনিবার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন বলে জানান প্রসিকিউশন পুলিশের সহকারী কমিশনার ফরিদ হোসেন।

এর আগে বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. হাসিবুল হক
শুনানি শেষে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এ মামলার প্রধান আসামি ও মূল হোতা বিপ্লব লস্কর (৩৪) অন্য মামলায় রিমান্ডে রয়েছে। আগামী সোমবার তার সাত দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের সময় অস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন, সাড়ে তিন লাখ জাল টাকা, নগদ ১১ লাখ টাকা ও ২৬৩টি সিমকার্ডসহ আরও কিছু সরঞ্জাম জব্দ করে।

এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের ভাষ্য, দেশি বিদেশি ব্যক্তিদের এই পার্সেল প্রতারক চক্র কখনও দেশে থেকে আবার কখনও বিদেশে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে পার্সেলে ডলার অথবা মূল্যবান উপহার পাঠানোর ফাঁদ পেতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সাধারণের ফেইসবুক আইডি, হোয়াটসঅ্যাপ, ই মেইল সংগ্রহ করে ইউএস আর্মি ও নেভিসহ বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে স্বর্ণ, মূল্যবান পাথর, হীরা, বিশাল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা, ডলার ও ইউরো ইত্যাদি উপহার পাঠানোর কথা বলে ফাঁদে ফেলে।

এরপর সেগুলো ব্যক্তির নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে ভুয়া পার্সেলের ছবি পাঠায়। প্রতারিত ব্যক্তিরা সরল বিশ্বাসে পার্সেল গ্রহণের অপেক্ষায় থাকেন। পরের ধাপে পার্সেলটি ছাড়াতে কাস্টমস হাউজ ফি বাবদ মোটা অংকের টাকা পরিশোধ করতে হবে। পার্সেল পাওয়ার আশায় কাস্টমস কর্মকর্তার দাবি করা টাকা পাঠিয়ে দেন।

এরপর কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ব্যক্তি আবারও ফোন করে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন। অবৈধ ডলার বা পণ্য থাকার কথা বলে মানি লন্ডারিং আইনসহ অন্যান্য আইনে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়।

গ্রেপ্তার বিপ্লবের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, খিলক্ষেত ও কাফরুল থানায় মানি লন্ডারিংয়ের মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় শতাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছেন বলে গোয়েন্দা পুলিশ জানায়।

পুরনো খবর

Also Read: ‘পার্সেল প্রতারণায়’ বিদেশি নাগরিকসহ ১১ গ্রেপ্তার

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক