জলবায়ু ক্ষতির ১৫.২ বিলিয়ন ডলার নিয়ে কপ-৩১-এ দাবি তুলবে বাংলাদেশ
জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ নভেম্বর তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হবেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বছরে ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার তহবিল (লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড) বাড়ানোর দাবি জানাবে বাংলাদেশ।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশ শুধু নিজের জন্য অর্থ বরাদ্দের দাবি তুলবে না; জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য তহবিলের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করবে।
বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি ও প্রধান অগ্রাধিকার তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে বাংলাদেশ কত অর্থ চাইবে—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “আসলে আপনারা যেভাবে সুনির্দিষ্টভাবে একটা অ্যামাউন্টের কথা বলছেন, যে আমরা এটা ক্ষতিপূরণ হিসেবে কত টাকা চাইব? সেটার আসলে নেগোসিয়েশন এখানে হয় না।
“এখানে নেগোসিয়েশনগুলো হয় আসলে গ্রুপ অর্থাৎ আপনি একটা দেশ হিসেবে কোন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত এবং সেই গ্রুপের নীতিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। যে কারণে একটা সুনির্দিষ্ট আর্থিক অঙ্কের কথা আমরা বলতে পারছি না। কারণ, সেটা এই আলোচনার বিষয়বস্তুও না।”
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানানো হবে। বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তহবিলের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করবে বাংলাদেশ।
মিন্টু বলেন, “এই ফান্ডের পরিমাণ যখন বাড়ানো হবে, তখন আমাদের মতো দেশগুলো সেই ফান্ডের জন্য আবেদন করবে এবং সেখান থেকে অর্থ ছাড় করা হবে।”
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো যাতে আরও বেশি অর্থ পায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও দাবি সম্মেলনে তুলে ধরা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আজকে বা গতকালকে যদি নিউজপেপার দেখেন, এখানে বলা হচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশ বছরে ১৫.২ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা ১৫.২ বিলিয়ন যেটা বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে বের করে দিয়েছি, যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আমাদের এই ক্ষতি হয়, বছরে আমরা সেটাই আমাদের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ক্ষতিপূরণ দাবি করব।”
প্রধানমন্ত্রীর সফর ১০ নভেম্বর
কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ নভেম্বর তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জানিয়েছেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
তিনি বলেন, “সেগমেন্টটা হল ১০ নভেম্বর থেকে ১২ তারিখ বিকালবেলা পর্যন্ত। সেখান থেকে উনি দেশে চলে আসবেন।”
আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১ হবে।
কপে থাকবে পাটের প্যাভিলিয়ন
এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নের পাশাপাশি পাটের প্যাভিলিয়নও থাকবে। সেখানে পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যবহার ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইমুম পারভেজ।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে যা থাকতে পারে, তা বিশ্বমঞ্চে আমরা তুলে ধরতে চাই।”
সাইমুম পারভেজ বলেন, “নানা ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। আমরা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত এবং শুধু ফান্ড চাইছি, তা নয়। একটি সহনশীল দেশ হিসেবে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপও নিতে চাই। সেগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরব।”
