৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

‘সাম্যবাদী’ রচনার শতবর্ষেও সমাজে প্রবল বৈষম্য: আনু মুহাম্মদ

“এখনো সেই কবিতা প্রাসঙ্গিক। কারণ নজরুলের সাহিত্য ও ভাবনার প্রভাব আমরা সমাজে দেখতে পাচ্ছি না, সমাজে প্রবল বৈষম্য দেখতে হচ্ছে,” বলেন তিনি।

‘সাম্যবাদী’ রচনার শতবর্ষেও সমাজে প্রবল বৈষম্য: আনু মুহাম্মদ

যে লোক ডায়াসে বক্তব্য দিচ্ছে, তাকে কেটে ফেলে দেবেন। শুধু যারা বসে আছে তাদের রাখবেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Oct 2026, 12:13 AM

Updated : 30 Oct 2026, 12:13 AM

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কবিতা রচনার শতবর্ষ পরেও সমাজে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন ‘সর্বজন কথা’ সাময়িকীর সম্পাদক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

তিনি বলেছেন, “শত বছর আগে এই কবিতা লিখেছেন নজরুল। এখনো সেই কবিতা প্রাসঙ্গিক। কারণ নজরুলের সাহিত্য ও ভাবনার প্রভাব আমরা সমাজে দেখতে পাচ্ছি না, সমাজে প্রবল বৈষম্য দেখতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়।”

বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলা একাডেমির শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ‘নজরুল চর্চা কেন্দ্র-বাঁশরী’ আয়োজিত আলোচনা, আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে কাজী নজরুল ইসলাম রচনা করেন ‘সাম্যবাদী’ কবিতা।

আনু মুহাম্মদ বলেন, “নজরুল সাম্যবাদী কবিতা লিখেছেন, আবার হামদ, নাত ও গজলও রচনা করেছেন। এটি সম্ভব হয়েছে তার সাম্যবাদী দর্শন ও মানুষকে বড় করে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। বর্তমান পৃথিবীতে কে হিন্দু, কে মুসলিম—এসব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, কিন্তু মানুষ নিয়ে আলোচনা নেই। সাম্যবাদী কবিতার শত বছর পরও এ ধরনের আলোচনা বেদনার।”

নজরুলের প্রতিবাদী চেতনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজ নজরুল বেঁচে থাকলে কী ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তেন, এমনকি বেঁচে থাকতে পারতেন কি না, কিংবা মৃত্যুর পর তার দাফন হতো কি না—এসব প্রশ্নও থেকে যায়। নজরুল এমন একজন লেখক, যার লেখা বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। কারাগারে গিয়েও তিনি লিখেছেন।”

আলোচনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ মওলা, বাঁশরীর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান, আবৃত্তি শিল্পী টিটু মুন্সী উপস্থিত ছিলেন।