‘আমাদের প্রতিবাদ সরকার শুনেও না শোনার ভান করে’

সমাবেশ থেকে হিল উইমেন্স ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি চন্দ্রিকা চাকমা আদিবাসী ছাত্র যুব সংগঠনসমূহের পক্ষ থেকে ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Nov 2023, 12:27 PM
Updated : 29 Nov 2023, 12:27 PM

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের দাবিতে ২৬ বছর পরও রাস্তায় মিছিল-সমাবেশ করতে হচ্ছে বলে আক্ষেপ ঝরেছে আদিবাসী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের কণ্ঠে।

বুধবার ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত ছাত্র-যুব সমাবেশে বক্তারা চুক্তি বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আদিবাসী ছাত্র যুব সংগঠনগুলো এই সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে।

সমাবেশ শেষে মিছিলটি শাহবাগ থেকে টিএসসি ঘুরে অপরাজেয় বাংলা হয়ে কলা ভবন ঘুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সভাপতি নিপন ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান রাজনৈতিক সমস্যাসহ সকল সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।

“২৬ বছরে চুক্তির ২৫টি ধারা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলেও ১৮টি ধারা আংশিকভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে ও ১৯টি ধারা বাস্তবায়ন হয়নি।”

তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত আদিবাসী বিষয়ক পার্মানেন্ট ফোরামে গিয়ে বলেছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৬৫টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে। চুক্তি নিয়ে সরকারের এ ধরনের টালবাহানা, অপপ্রচার কখনও সফলতা বয়ে আনবেনা।”

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে  বাংলাদেশ ছা্ত্র ইউনিয়নের সভাপতি দীপক শীল বলেন, “পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা মনে করেছিলাম আদিবাসীরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। আজকে চুক্তির ২৬ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু মৌলিক বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আমাদেরকে আজকেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিছিল, সমাবেশ করতে হচ্ছে। এতে সরকারের লজ্জা হওয়া দরকার যে, আমরা এই বর্ষপূর্তিতে আনন্দ উৎসব করতে পারছি না।”

বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি অতুলন দাশ আলো বলেন, “বিগত ৫২ বছরে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারাই আদিবাসীদেরকে ব্যবহার করেছে। সরকারের আজ লজ্জা হওয়ার কথা। 

“২৬ বছর পরও এই চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ করতে হচ্ছে আমাদেরকে। কিন্তু সরকার যদি নিজেদেরকে আদিবাসীবান্ধব প্রমাণ করতে চায়, তবে আমি অনুরোধ করব, যেন তারা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করে।” 

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল (বিএমএসসি) ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যংজ মারমা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির প্রায় ২৬টি বছর পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু পাহাড়ে সেটলারদের উপদ্রব, সেনাশাসন, নারী নির্যাতন, ভূমি বেদখল সমানে চলছে। এই চুক্তি আমাদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনার জন্য স্বাক্ষরিত হলেও তার বদলে এনেছে হতাশা।” 

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অলিক মৃ বলেন, “আমরা কতদিন শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে কিংবা রাজু ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করব? আমাদের প্রতিবাদ সরকার শুনেও না শোনার ভান করে থাকে।”

তিনি বলেন, “যাদের সঙ্গে অর্থাৎ জেএসএসের এ চুক্তি হয়, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়ন না করতে নানা টালবাহানা নিচ্ছে এবং জেএসসের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদেরকে ঘরছাড়া করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করলেও যথাযথ ক্ষমতা প্রদান করা না করে উল্টো আঞ্চলিক পরিষদকে অথর্ব করে রাখা হয়েছে।” 

সমাবেশ থেকে হিল উইমেন্স ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি চন্দ্রিকা চাকমা আদিবাসী ছাত্র যুব সংগঠনসমূহের পক্ষ থেকে ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো- পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, পাহাড় থেকে অপারেশন উত্তরণসহ অস্থায়ী সেনা ছাউনি প্রত্যাহার, পার্বত্য চ্ট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনসমূহের বিরুদ্ধে দায়ের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং  আদিবাসী নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

পিসিপির ঢাকা মহানগর শাখার তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হ্লামংচিং মারমার সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি আন্তনী রেমা, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জন জেত্রা, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মু্ক্তা বাড়ৈ।