পিক আপ চালক হত্যা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
বিচার চলাকালে আদালত ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
তিন বছর আগে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় পিক আপ চালক আসাদুল ইসলাম হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত; আর যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন তিনজন।
ঢাকার ১৬ নং অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নীপু বুধবার এ রায় দেন।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছেন রাজু হাওলাদার; এছাড়া অনিক হাসান ওরফে শান্ত, সজল মিয়া, কাউছারকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার সাফি নেওয়াজ নাসির বলেন, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি রাজুকে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে রাজু কারাগারে রয়েছেন। রায় ঘোষণার আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর তথ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী মাহমুদুর রহমান সুইট।
তিনি বলেন, ''অপর তিন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হয়েছেন।"
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, অন্যসব দিনের মত ২০২৩ সালের ১৩ জুন রাত সাড়ে ৯ টার গাড়ি চালানো শেষ করে হাজারীবাগ থানার ঢাকা ট্যানারি মোড়ে গাড়ি পার্কিং করে বাসায় ফিরছিলেন পিক আপ চালক আসাদুল।
“রাত ১১ টা ১০ মিনিটের দিকে আরএস পাম্পের কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। এরপর তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ জুন মারা যান আসাদুল।”
এ ঘটনায় আসাদুলের বাবা মোন্নাফ মিয়া ১৯ জুন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত এই চার আসামিকে অভিযুক্ত করে হাজারীবাগ থানার এসআই কমল কৃষ্ণ সাহা ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তদন্তে উঠে আসে, আরএস পাম্পের কাছে পৌঁছালে চার আসামি আসাদুলের কাছে মোবাইলসহ যা যা আছে দিয়ে দিতে বলে। কিন্তু দিতে না চাইলে রাজু ছুরি দিয়ে আসাদুলের বুকে আঘাত করে। এরপর তারা আসাদুলের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
মামলার আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামিদের সাজার রায় এল।
