মাদক পাচার বন্ধে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার

দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে মাদক প্রতিরোধ নিয়ে আরও আলোচনা চায় মিয়ানমার।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Sept 2022, 05:53 PM
Updated : 15 Sept 2022, 05:53 PM

সীমান্ত পথে মাদক পাচার ও মাদকদ্রব্য বহন প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।

দুই দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে এই অঙ্গীকার ঘোষণা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বাগতিক দেশ হিসেবে মিয়ানমার বৃহস্পতিবার ভারচুয়াল প্ল্যাটফর্মে এই বৈঠকের আয়োজন করে।

এর আগে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে চারটি দ্বিপক্ষীয় সভা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক বাংলাদেশ আয়োজন করেছিল।

বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদকদ্রব্য ও মাদকজাতীয় পণ্যের অবৈধ পাচার রোধ করা। শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে লক্ষ্যে মাদক বন্ধ করতে চায় উভয় দেশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “মিয়ানমারের সঙ্গে এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এ সম্পর্কের আড়ালে মাদক চোরাকারবারিরা ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ (আইস) পাচারের মাধ্যম বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”

বিশেষ করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার স্থল ও সমুদ্রসীমা ভূকৌশলগত কারণে মাদক চোরাকারবারিদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সভায় দুই দেশের অভ্যন্তরে মাদকের বর্তমান পরিস্থিতি, মাদকদ্রব্যের উৎস, রুট, মাদক চোরাচালানের কৌশল, ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য বিনিময়, মাদক উৎপাদনের স্থান ও অবৈধ কারখানা ধ্বংসে নিদিষ্ট সময় নির্ধারণ, স্থল ও জল সীমান্তে যৌথ অভিযান পরিচালনা, বর্ডার লিয়াজোঁ অফিসের কার্যক্রম, মাঠ পর্যায়ে মাদক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত উভয় দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে সভার আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে মাদক প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা আরও বেশি করে আয়োজনে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল ওয়াহাব ভূঞার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‍্যাব, বাংলাদেশ ব্যাংক ও কাস্টমসের প্রতিনিধিসহ ২০ জন সদস্য অংশ নেন।

মিয়ানমারের পক্ষে সেন্ট্রাল কমিটি ফর ড্রাগ অ্যাবিউজ কন্ট্রোলের প্রধান পুলিশ বিগ্রেডিয়ার জেনারেল উইন নেইং এর নেতৃত্বে ১৩ জন সদস্য অংশ নেন।

পরের বৈঠক ২০২৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক