১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মুখপাত্র হওয়ার পরদিন ইসি সচিবের মুখে ‘কুলুপ’

সোমবার দিনভর নির্বাচন ভবনে অবস্থান করে বারবার চেষ্টা করেও মুখপাত্র মো. জাহাংগীর আলমের বক্তব্য নিতে পারলেন না গণমাধ্যমকর্মীরা।

মুখপাত্র হওয়ার পরদিন ইসি সচিবের মুখে ‘কুলুপ’

নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব জাহাংগীর আলম। ফাইল  ছবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Nov 2023, 11:53 PM

Updated : 06 Nov 2023, 11:53 PM

নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নির্ধারণ করে অফিস আদেশ জারির পরদিন গণমাধ্যম ‘এড়িয়ে গেলেন’ কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম। আর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কথা বলেননি চার নির্বাচন কমিশনারের কেউ।

ফলে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে অপেক্ষা করেও সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য ছাড়াই ফিরতে হল।

সংসদ নির্বাচন প্রস্তুতি, সদ্য শেষ হওয়া লক্ষ্মীপুরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুটি আসনে উপনির্বাচন নিয়ে কথা বলতে সোমবার গণমাধ্যমকর্মীরা আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে যান।

তফসিলের আগে আগে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক নিয়ে এদিন গণমাধ্যমকর্মীদের অনেক প্রশ্ন ছিল। এর পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ভোটে কারচুপির যে অভিযোগ দুই প্রার্থী এনেছেন, তা নিয়েও জিজ্ঞাসা ছিল।

এসব বিষয়ে কমিশন মুখপাত্র ও সচিবের সঙ্গে কয়েক দফা চেষ্টা করলেও সাড়া দেননি তিনি। অথচ আগের দিন জানানো হয়েছে, কমিশনের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।

নির্বাচন ভবনের চতুর্থ তলায় (সিইসি ও সচিবের দপ্তর) ও পঞ্চম তলায় (চার নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরে) সাংবাদিকরা অপেক্ষা করার সময় নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার দুই যুগ্মসচিবকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীরের দপ্তরে গিয়ে বৈঠক করেন ইসি সচিব।

সেই বৈঠক শেষে সচিব যান আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খানের দপ্তরে।

এভারে তিনি অপর দুই কমিশনার রাশেদা সুলতানা ও মো. আনিছুর রহমানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। এরপর ফেরেন নিজের দপ্তরে।

পরে তিন কমিশনার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের কাছে গেলেও নিজ দপ্তরেই অবস্থান করেন মো. আনিছুর রহমান।

বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নির্বাচন ভবন ত্যাগ করেন সিইসি।

ভোট সামনে রেখে সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলমকে মুখপাত্র করে রোববার অফিস আদেশ জারি হয়। এতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি হিসেবে কমিশন সচিব গণমাধ্যমকে ব্রিফিং করবেন এবং তিনি কমিশনের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিন একটি কেন্দ্রে ৫৭ সেকেন্ডে ৪৩টি ভোট দেওয়ার একটি ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। বলা হচ্ছে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে সদর উপজেলা দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ খাগুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের চিত্র এটি। যিনি ভোট দিয়েছেন, তিনি নৌকার এজেন্ট আজাদ হোসেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, যিনি ভোট দিয়েছেন, তাকে সহযোগিতা করেছেন আরেক জন কর্মী। দুইজনের গলাতেই ছিল নৌকা প্রতীকের ব্যাজ।

এই ঘটনার পর উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেন। এতে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা এই আদেশের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনেও পাঠিয়েছেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও কমিশন জাহাংগীর আলম ফোন ধরেননি।

পুরানো খবর:

ইসিতে সমন্বয়হীনতা নেই: আহসান হাবিব

পুরানো খবর:

ইসির ভেতরের দ্বন্দ্ব ‘বাইরে আনা ঠিক হয়নি’

পুরানো খবর:

ইসিতে কর্তৃত্ব: ৪ কমিশনারকেও সব জানানোর নির্দেশ

পুরানো খবর:

ইসি কর্মকর্তাদের মধ্যে সংবাদমাধ্যমে কথা বলবেন কেবল সচিব