০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সাক্ষ্য আইন সংশোধনে সংসদে বিল

মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা দীর্ঘ দিন ধরে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এ ঔপনিবেশিক আইনটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সংসদ প্রতিবেদক

Published : 31 Aug 2022, 08:13 PM

Updated : 31 Aug 2022, 08:13 PM

ঔপনিবেশিক আমলের সাক্ষ্য আইনের দুটি ধারায় ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মামলায় বাদীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার যে সুযোগ রয়েছে, তা বাতিল করতে সংসদে একটি বিল উঠেছে।

এছাড়া মামলার বিচারে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনেরও সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে আইনের এ সংশোধনের মাধ্যমে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বুধবার ‘এভিডেন্স অ্যাক্ট ১৮৭২ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২২’ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি ৩০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ (৪) ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি যখন বলাৎকার কিংবা শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারিতে সোপর্দ হন, তখন দেখানো যেতে পারে যে অভিযোগকারিনী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্রা।”

সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবিত আইনে এই ধারাটি বাতিল করা হয়েছে।

আর ১৪৬ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, “তাহার চরিত্রের প্রতি আঘাত করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা যায়, যদিও এ রূপ প্রশ্নের উত্তরের দ্বারা সে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো অপরাধের সহিত জড়িত হতে পারে, কিংবা সে দণ্ডলাভের যোগ্য সাব্যস্ত হতে পারে, অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাহার দণ্ডলাভের যোগ্য সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তথাপি অনুরূপ প্রশ্ন করা যাবে।”

পুরানো খবর:

সাক্ষ্য আইন: ভিকটিমকে জেরায় লাগবে আদালতের অনুমতি

মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা দীর্ঘ দিন ধরে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই ঔপনিবেশিক আইনটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

ওই ধারার সংশোধনের প্রস্তাব করে বিলে বলা হয়েছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের প্রশ্ন করা যাবে না।

এছাড়া সাক্ষ্য আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন ও নতুন ধারা যুক্ত করে মামলার বিচারে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

কেউ যাতে ভুয়া বা জাল সাক্ষ্যপ্রমাণ ডিজিটাল মাধ্যমে হাজির করতে না পারে, আদালত যদি মনে করে যে কোথাও আপত্তিজনক কিছু আছে, অথবা কেউ যদি আপত্তি তোলে, তাহলে ওই সাক্ষ্য-প্রমাণের ফরেনসিক পরীক্ষা করা যাবে, সেই বিধানও রাখা হয়েছে বিলে।