১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্গাপূজায় তিন স্তরের নিরাপত্তা: আইজিপি

তিনি বলেন, “পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Oct 2026, 07:54 PM

Updated : 11 Oct 2026, 07:56 PM

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব আসন্ন দুর্গাপূজা ‘নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে’ উদযাপনের লক্ষ্যে ‘পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা বলেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেছেন, “দুর্গাপূজা ঘিরে পুলিশ প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা পরবর্তী সময়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে পুলিশের পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”

দুর্গাপূজা সামনে রেখে রোববার দুপুরে পুলিশ সদরদপ্তরে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। পুলিশ সদরদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।

আইজিপি বলেন, “পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।”

এক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আইজিপি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতি বছরের মত এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদে, আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশা করছেন।

পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা, হিন্দু ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। এর বাইরে মহানগরের পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও নৌ পুলিশের পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হিন্দু ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ‘সন্তোষ’ প্রকাশ করে সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

সেখানে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব বা ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের’ বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।

যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা কাছের থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়।

পূজা চলাকালে সিসিটিভি সক্রিয় রাখা, পূজামন্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ড বাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

দুর্গাপূজা চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে বলে সভায় আশ্বস্ত করা হয়।

এ উপলক্ষে পুলিশ সদরদপ্তর এবং অন্যান্য পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এ বছর দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।