১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

রংপুরে ৯৬৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, চার স্তরের নিরাপত্তা

১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Oct 2026, 02:26 PM

Updated : 13 Oct 2026, 02:26 PM

শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে রংপুরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমায় রঙ-তুলির শেষ আঁচড় পড়ছে, কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জার কাজ।

উৎসব নির্বিঘ্ন করতে রংপুর মহানগর ও জেলার আট উপজেলায় ৯৬৪টি পূজামণ্ডপে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটি জানিয়েছে, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন মণ্ডপ কমিটির স্বেচ্ছাসেবকেরা।

পুলিশ ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রংপুর মহানগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে এবার ১৬৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় মহানগরীতে মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ১০টি।

এ ছাড়া জেলার আট উপজেলায় ৮০০টি মণ্ডপে পূজা হবে। এর মধ্যে রংপুর সদরে ৯৪টি, গঙ্গাচড়ায় ৯৯টি, তারাগঞ্জে ১৬৫টি, বদরগঞ্জে ১২৫টি, মিঠাপুকুরে ১৫১টি, পীরগঞ্জে ১০০টি, পীরগাছায় ৯১টি এবং কাউনিয়ায় ৭৫টি মণ্ডপ রয়েছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পূজা শুরুর আগেই এসব চাল মণ্ডপ কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের রংপুর জেলা সভাপতি রাম জীবন কুণ্ডু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে

দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়ে আসছে।

“প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে বলে আশা করছি।”

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ। প্রতিমাশিল্পীরা খড়, বাঁশ, সুতলি ও কাদা-মাটি দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরির পর রঙ-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গার প্রতিচ্ছবি।

দেবী দুর্গার পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের প্রতিমা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও আয়োজকরা।

আয়োজকেরা জানান, উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, আর্থিক সংকট ও দক্ষ কারিগরের অভাবে অনেক মণ্ডপে পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলা থেকে প্রতিমা সংগ্রহ করা হয়েছে। একটি প্রতিমা তৈরি করতে প্রায় এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিমা সংগ্রহ ও মণ্ডপ সাজানোর কাজ করছেন তারা।

কাউনিয়ার নিলাম খরিদা সদরা সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী রজত চন্দ্র রায় বলেন, তাদের মন্দিরে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার প্রতিটি উপজেলায় মন্দির ও মণ্ডপ সাজানোসহ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। প্যান্ডেল নির্মাণ, প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা।

উৎসব চলাকালে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় জানান, এবছর রংপুর জেলার মোট ৯৬৪টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব হচ্ছে। গতবছরের চেয়ে এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে।

রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ মন্দির-মণ্ডপগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং সেল চালু, মন্দির-মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ মোবাইল টিমের মাধ্যম টহল জোরদার করতে হবে।”

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের রংপুর জেলা সভাপতি রাম জীবন কুণ্ডু জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়ে আসছে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে বলে আশা করছি।

সতর্ক থাকলে পূজায় কোনো বিশৃঙ্খলা হবে না

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চারস্তরের নিরাপত্তার পাশাপাশি পূজামণ্ডপ কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবে।

“আমরা সকলে মিলে সতর্ক থাকলে পূজায় কোনো বিশৃঙ্খলা হবে না। আশা করছি, উৎসবমুখর পরিবেশেই পূজা উদযাপিত হবে।”

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রউক) চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু বলেন, “প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি সেগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা যায়।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি দুর্গাপূজামণ্ডপের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

পূজার সূচি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।

এরপর ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপগুলো। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ উৎসব।