১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

মহাখালী ও বনানী পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

“আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে।”

মহাখালী ও বনানী পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে সস্ত্রীক তারেক রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Oct 2026, 01:35 AM

Updated : 19 Oct 2026, 01:35 AM

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই হবে মুখ্য।

রোববার রাতে রাজধানীর মহাখালী ও বনানী পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি একথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিনি বলেন, রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান মহাখালী ও বনানী পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এসময় তারা পূজারি ও ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ গড়ার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি। ঠিক একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা ধর্ম দেখব না। আমরা দেখব কে এই দেশের নাগরিক।”

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাতে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে যান মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরের মণ্ডপ পরিদর্শনে। সেখান পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাস। প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিনী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সেখান থেকে তারা বনানীর পূজা মণ্ডপে যান। সেখানে তারা উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

উপ প্রেস সচিব বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে।

‘‘একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান–যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।

‘‘স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে জনগণ ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। সেসব আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণঅভ্যুত্থানকে সফল করেছিল।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে।”

বাংলাদেশে সম্প্রীতির বন্ধনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হচ্ছে, এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামী হাজার বছরও যাতে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।

পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।