‘বিশ্ব রেকর্ড’ করার মত ‘রাঘব-বোয়াল’ ধরার দাবি দুদকের

“আমরা আগাচ্ছি, সব খবর হয়ত আপনাদের কাছে যায় না, আপনারা প্রচারও করেন না।”

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Nov 2022, 03:57 PM
Updated : 21 Nov 2022, 03:57 PM

দুদক শুধু চুনোপুঁটিদের ধরে-এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন সংস্থার কমিশনার মো. জহুরুল হক।

তিনি বলেছেন, “কী যেন বলেন, দুদক চুনোপুঁটি ধরে, কিন্তু কতগুলো রাঘব-বোয়াল ধরেছে,তা কি দেখেছেন কখনও? সেটা দেখেন, বিশ্ব রেকর্ড করার মত রাঘব-বোয়াল ধরেছে এই দুদক।”

দুদকের অষ্টাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার সেগুনবাগিচায় কমিশনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি।

সভায় দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং অন্য কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খানও ছিলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে দুদকের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক বলেন, “আমরা আগাচ্ছি, সব খবর হয়ত আপনাদের কাছে যায় না, আপনারা প্রচারও করেন না।”

২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সব ধরনের অর্ধ পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা ছিল দুদকের; কিন্তু ২০১৬ সালে এ আইনের এক সংশোধনীর পর কেবল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থ পাচার সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া অন্যান্য অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা হারায় কমিশন।

এ বিষয়টি উল্লেখ করে জহুরুল হক বলেন, “সত্যি অর্থ পাচার হচ্ছে। অর্থ পাচারের ব্যাপারে পারসেপশন আছে। আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু মানি লন্ডারিংয়ের ব্যাপারে আইন করে সব নিয়ে গেছে। এখন যেটা আছে একটা তফসিলভুক্ত, সেটা নিয়ে আমরা ফাইট করছি।”

এরপর তিনি বলতে থাকেন, “আমাদের যে এচিভমেন্ট নেই, তা কিন্তু না। মানি লন্ডারিং নিয়ে দেখেন আমরা কী করেছি। সিঙ্গাপুর থেকে এই পর্যন্ত ২১ কোটি টাকার মুদ্রা এনেছি।”

এ সময় বেশ কয়েক জন সাংবাদিক একসাথে বলে উঠেন, ওই একটাই....

তখন সাংবাদিকদের থামিয়ে দিয়ে জহুরুল হক ফের বলতে থাকেন, “রাখেন রাখেন, শেষ করে নিই। মালয়েশিয়া থেকে ২২ লক্ষ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত আমরা জব্দ করেছি। কানাডা থেকে ২১টি ব্যাংক হিসাবের ৬৭ দশমিক ৯১ লাখ কানাডিয়ান ডলার এবং ৪৩ দশমিক ৯৫ ইউএস লাখ ডলার এবং অস্ট্রেলিয়ার ২৪টি ব্যাংক থেকে ৬১ দশমিক ৫০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার অবরুদ্ধ করা হয়েছে।”

এরপর অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলা ও তদন্তের ‘সাফল্য’ তুলে ধরতে গিয়ে ২০২০ ও ২০২১ সালের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “দুদক ২০২০ সালে ৮টি, ২০২১ সালে ১৩টি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া ২০২০ সালে ৪টি ও ২০২১ সালে আরও একটি মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে। যেগুলো মামলার চার্জশিট হয়েছে, সেগুলো থেকে আমার বিশ্বাস ৮০ ভাগ আমাদের পক্ষে আসবে।”

এদিকে বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থপাচার সংক্রান্ত তথ্য চেয়েও এ বিষয়ে সহায়তা না পাওয়ার এ সংক্রান্ত তদন্তে দেরি হচ্ছে বলে জানান দুদক চেয়াম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ করতে গেলে কিছু তথ্যের দরকার হয়। এ জন্য দুদক বিদেশি কোনো সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে না।

“আমাদেরকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) শরণাপন্ন হতে হয়। তাদের থেকে যখন কোনো তথ্য পাই তখন তদন্ত শুরু করি।”

প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু হলেও মামলা প্রমাণ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে তথ্য পেতে যে বেগ পেতে এবং বিভিন্ন দেশ অসযোগিতা করে, সেই কথাও বলেন দুদক চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, “তদন্ত শুরু করে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। এর জন্য আমরা আমাদের সেন্ট্রাল অথরিটি জননিরাপত্তা বিভাগের অনুরোধ করি। তারা আমাদের রিকুয়েস্ট পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠায় সেই দেশের বাংলাদেশের এম্বাসিতে।

“এরপর অ্যাম্বাসি সে দেশের সরকার বা সংশ্লিষ্ট অথরিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই যে বিড়ম্বনা ও দেরি, তা কিন্তু দুদকের উপর চলে আসে।”

দুদকের আরেক কমিশনার (অনুসন্ধান) মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, “মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত ২৭ ধরনের অপরাধের কেবলমাত্র একটি বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে পারে। অথচ অর্থপাচারের যাবতীয় দায় দুদককে নিতে হয়। এটা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক