তৌফিক ইমরোজ খালিদী সাংবাদিক ও মানুষ হিসেবে ‘অতুলনীয়’: শওকত মাহমুদ
তৌফিক ইমরোজ খালিদী যে প্রজন্ম তৈরি করেছেন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে, সেই প্রজন্ম ‘তার আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে’
তৌফিক ইমরোজ খালিদী একজন সাংবাদিক হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে ‘অতুলনীয়’ বলে বর্ণনা করেছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ।
তার ভাষ্য, “একজন সাংবাদিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন ‘অতুলনীয়’।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে নিয়ে শওকত মাহমুদ বলেন, “তার সঙ্গে আমার সম্পর্কের গভীরতা ছিল না, কিন্তু তার সাংবাদিকতার মান, তার সাংবাদিকতার প্রণালী সম্পর্কে আমার সবসময় একটা ‘উচ্ছ্বসিত’ ধারণা ছিল। আজকে তার এই বিয়োগে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত।”
শনিবার দুপুর আড়াইটায় বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদকের মরদেহ রাখা হয়। সাংবাদিক খালিদীকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানান তার বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিরা।
শ্রদ্ধা জানানো শেষে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদকের জানাজা সম্পন্ন হয়। এদিন বিকাল ৫টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হন সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রয়াণে সাংবাদিকতার ক্ষতি প্রসঙ্গে শওকত মাহমুদ বলেন, “আমার মনে আছে, ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে যখন ভাষা শহীদদের ওপর গুলি করা হয়, পরদিন দৈনিক আজাদ পত্রিকায় একটা ঐতিহাসিক শিরোনাম হয়েছিল। সে শিরোনামটি লিখেছিলেন আমাদের প্রয়াত একজন বিখ্যাত সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্ত। তিনি ওই পত্রিকার নিউজ এডিটর ছিলেন।
“তিনি লিখেছিলেন যে, ‘মৃত্যুর জানাজা মোরা কিছুতেই করিব না পাঠ, কবরেও ঘুম ভাঙে, জীবনের দাবী আজ এতই বিরাট ‘। তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জীবনের দাবি আমরা সবাই অনুভব করি। তিনি বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘পথিকৃৎ ছিলেন’। এবং তার সাংবাদিকতার প্রণালীতে সত্য বের করে আনা এবং আমাদের পূর্বসূরী সাংবাদিকদের যে লেখনীর ঐতিহ্য, সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করা ছিল—এটা আমার কাছে মনে হয়েছে যে এটা তার একটা বিরাট গুণ।”
তিনি বিগত সরকারের আমলে ‘মিথ্যা মামলায়’ তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নির্যাতিত হওয়ার কথাও স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের একথাও মনে রাখতে হবে, আমাদের পূর্বসূরী সাংবাদিকরা যেভাবে মিথ্যা, হয়রানিমূলক মামলায় নির্যাতিত হয়েছিলেন, আজকে এখানেও অনেক সাংবাদিক আছেন যারা বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলে নির্যাতিত হয়েছেন। তার মধ্যে তৌফিক ইমরোজ খালিদীকেও একটি মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে তাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে।
“এই কষ্টের ফল তিনি ভোগ করেছেন। যে অসুস্থতায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন, নিশ্চয়ই সেই কষ্টের সঙ্গে এই অসুস্থতার একটা সংযোগ থেকে থাকতে পারে।”
তৌফিক ইমরোজ খালিদী যে প্রজন্ম তৈরি করেছেন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে, সেই প্রজন্ম ‘তার আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে’ এবং ‘বাংলাদেশের সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করবে’ বলেও আশা করেন শওকত মাহমুদ।
ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তার মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর ৮ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে খালিদীর জানাজা হয়। সেখানে সাবেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
এরপর কফিন নেওয়া হয় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রিয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অফিস প্রাঙ্গণে। সেখানে মরদেহ রাখা হয় দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।
এরপর সাংবাদিক খালিদীর মরদেহ নেওয়া হয় তার বাসায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষবার তাকে দেখেন।
