অগ্রণী ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তার কারাদণ্ডের রায় স্থগিত

হাই কোর্টের একটি একক বেঞ্চ এই পাঁচ কর্মকর্তাকে ৩ মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ড এবং সম্পত্তি ক্রোকের রায় দিয়েছিল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Jan 2024, 05:32 PM
Updated : 25 Jan 2024, 05:32 PM

আদালতের আদেশ অমান্য করায় অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে দেওয়া হাই কোর্টের সাজার রায় ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির, অ্যাডভোকেট শামীম খালেদ ও অ্যাডভোকেট তানজীবুল আলম। মূল মামলার বাদী মুন গ্রুপের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও অ্যাডভোকেট নুরুল আমীন।

আদালতের আদেশ অমান্য করায় গত ২৩ জানুয়ারি বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের একক হাই কোর্ট বেঞ্চ ওই পাঁচ কর্মকর্তাকে ৩ মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ড দেয়। একইসঙ্গে তাদের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায় পাওয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।

দণ্ডিতরা হলেন– অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মুরশেদুল কবীর, ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি)-১ ওয়াহিদা বেগম, ডিএমড-২ শ্যামল কৃষ্ণ সাহা, প্রিন্সিপাল শাখার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. ফজলুল করিম এবং অবসপূর্ব ছুটিতে থাকা জিএম এ কে এম ফজলুল হক।

হাই কোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে বুধবার তারা আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে পাওনা টাকার ২৫% কিস্তিতে পরিশোধের জন্য মুন গ্রুপের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঋণের ২৫% পরিশোধ না করলে মুন গ্রুপকে খেলাপি তালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবিতে পাঠানো হবে।

ব্যাংকের ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মুন গ্রুপের পক্ষ থেকে নিম্ন আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা করা হয়। একইসঙ্গে ব্যাংকের চিঠির বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।

দেওয়ানি আদালত এই আদেশ নাকচ করলে তার বিরুদ্ধে মুন গ্রুপ হাই কোর্টে আপিল করে। হাই কোর্ট ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর ব্যাংকের চিঠির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করে এবং পাশাপাশি রুল দেয়।

কিন্তু হাই কোর্টের এই আদেশ বলবৎ থাকা অবস্থায় ঋণের নির্ধারিত ২৫% কিস্তি পরিশোধ না করায় মুন গ্রুপকে খেলাপি তালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি পাঠায় অগ্রণী ব্যাংক।

তখন মুন গ্রুপ অগ্রণী ব্যাংকের এই পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ দায়ের করে।