১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় প্রথম আলো সম্পাদকের স্থায়ী জামিন

বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পুরনো মামলাগুলো চলবে বলে সরকারি আইন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় প্রথম আলো সম্পাদকের স্থায়ী জামিন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আগাম জামিন নিতে হাই কোর্টে হাজির হয়েছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2023, 06:40 PM

Updated : 16 Aug 2023, 09:43 PM

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান।

বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ফয়সাল বিন আতিক শুনানি শেষে স্থায়ী জামিনের এ আদেশ দেন।

শুনানিতে স্থায়ী জামিন চেয়ে মতিউর রহমানের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার বলেছিলেন, প্রথম আলো সম্পাদক অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের কোনো শর্ত ভঙ্গ করেননি।

বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও পুরনো আইনে করা মামলাগুলো চলবে বলে সরকারি আইন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেছেন আবদুল মালেক নামে এক আইনজীবী। গত ২৯ মার্চ রমনা থানায় করা এই মামলায় পত্রিকাটির সাভারের নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামস এবং একজন আলোকচিত্রীকেও আসামি করা হয়।

মামলাটি করা হয় গত ২৬ মার্চ প্রথম আলোর ফেইসবুক পাতায় প্রকাশিত একটি ফটো কার্ডকে কেন্দ্র করে, যা একটি সংবাদ প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে একটি ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে তা তাদের ফেইসবুক পেজে শেয়ার করে। ফেইসবুকের ফটোকার্ডে দেখা যায়, একটি শিশু ফুল হাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ফটকে দাঁড়িয়ে আছে। আর নিচে জাকির হোসেনকে উদ্ধৃত করে লেখা- ‘পেটে ভাত না জুটলে স্বাধীনতা দিয়া কী করুম। বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। আমাগো মাছ, মাংস আর চাইলের স্বাধীনতা লাগবো।’

এর মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের প্রয়াস চালান হয় এবং অন্যের বক্তব্য শিশুটির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এই ঘটনার পর শামসুজ্জামান শামসকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ, পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ নিয়ে দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুেলা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

মামলার পর হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন মতিউর রহমান্। তার মেয়াদ শেষে গত ৩ মে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি।