মাঝ আকাশে অসুস্থ যাত্রী, চিকিৎসা করিয়ে দেশে নিয়ে এল বিমান

সুস্থ হয়ে রোববার বিমানের বিজি-৭২২ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন আশিক।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Feb 2024, 01:45 PM
Updated : 13 Feb 2024, 01:45 PM

দেশের পথে যাত্রা করে মাঝ আকাশে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী আশিক মিঞা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ওমানে ওই ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ করে তাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। 

সেখানে হাসপাতালে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ১০ দিন পর তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বিমান। 

ঘটনাটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফেইসবুকে পেইজে মঙ্গলবার বিকালে পোস্ট করা হয়। 

প্রায় দুই বছর আগে সৌদি আরবে যান ঢাকার দোহারের বাসিন্দা আশিক মিঞা ওরফে খোকন।

গত ২ ফেব্রুয়ারি আশিক সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে দেশে ফিরতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪০ ফ্লাইট ধরেন।

এক ঘণ্টা পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ অবস্থায় ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ইসমাইল নিকটতম ওমানের রাজধানী মাস্কাট বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করেন। 

এরপর প্রথমে অসুস্থ আশিক মিঞাকে মাস্কাট বিমানবন্দরের ইমারজেন্সি ক্লিনিকে নেয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে তাকে ওমানের কিমস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 

সেখানে জানা যায় আশিক ব্রেন স্ট্রোক করেছেন। অবস্থা গুরুতর। পরে ওইদিন রাতেই তাকে মাস্কাটের সরকারি খৌলা হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। 

গত শুক্রবার পর্যন্ত তাকে ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। শনিবার তাকে সাধারণ বেডে স্থানান্তর করা হয়।

এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওমান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে আশিকের ওমানের ভিসা করানো হয়। অবশেষে রোববার বিমানের বিজি-৭২২ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন আশিক। 

বিমানের ওমান স্টেশনের ম্যানেজার মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আশিক আগেও অসুস্থ ছিলেন। পরে উনি যাত্রার মাঝপথে অসুস্থ হয়ে যান। ওই ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ করার পর খোঁজ পেয়ে আমরা সেখানে যাই।

“এরপর তাকে কিমস হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অবস্থা ছিল খুবই গুরুতর। কিমস হসপিটাল তার চিকিৎসা করতে অপারগতা জানায় এবং তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে তাকে খৌলা হাসপাতালে নেওয়া হয়।”

তিনি বলেন, “ওমানে বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমানে ভিসা চালু নেই। আমরা সেদেশের ইমিগ্রেশনকে বুঝিয়ে ভিসার ব্যবস্থা করি। পরে সুস্থ হওয়ার পর ওই যাত্রীকে দেশে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আশিকের চিকিৎসা ও তাকে পৌঁছে দেওয়ার পুরো ব্যয় বিমান বহন করেছে।”