রেকর্ড ১০৩২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির
২০২১-২২ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৮৭৯ কোটি টাকা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে প্রথমবারের মত এক হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে বলে জানিয়েছেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
বৃহস্পতিবার বিকালে নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে করপোরেশনের দ্বিতীয় পরিষদের একবিংশতম সভায় তিনি এ কথা জানান।
মেয়র বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল এই সিটি করপোরেশনকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। আমাদের কাউন্সিলরবৃন্দ ও কর্মকর্তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা সে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছি, সফল হয়েছি।
“আমরা বিগত অর্থবছরে ১ হাজার ৩২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছি। এর মাধ্যমে আমরা রাজস্ব আদায়ে হাজার কোটি টাকা অতিক্রমের নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছি। সেজন্য আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”
এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭০৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে। পরের অর্থবছরে ৮৭৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণ করে ৭৫ ওয়ার্ডের এই নগর সংস্থা।
তাপস বলেন, “যে সিটি করপোরেশন একসময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খেত, পরিচালন ব্যয়ে ঘাটতি হত, আপনাদের সকলের অব্যাহত কর্মপ্রচেষ্টায় আমরা সেই দৈন্যদশা অতিক্রম করেছি। আমরা আত্মনির্ভরশীল হয়েছি। এর মূল কারণই হল আমাদের ওপর ঢাকাবাসীর আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে আমাদের ওপর ঢাকাবাসীর প্রত্যাশাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
“আমরা এখন আত্মবিশ্বাসী, ঢাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সেই সক্ষমতা বাড়ছে। নতুন নতুন প্রতিকূলতাকে নজরে নিয়ে আমরা কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছি। আমরা আশাবাদী, ঢাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে।”
বোর্ড সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৬ হাজার ৭৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেরও অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাদল সরদারকে ‘শ্রেষ্ঠ কাউন্সিলর' হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। তাকে ৫০ হাজার টাকা, একটি ক্রেস্ট ও এটি সনদ দেওয়া হয়।
এছাড়া করপোরেশনের সচিব আকরামুজ্জামান, অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার, অঞ্চল-২ এর স্বাস্থ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান এবং সংস্থাপন শাখার অফিস সহায়ক মো. মোস্তফাকে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছেন এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ, একটি ক্রেস্ট ও একটি সনদ।
দক্ষিণ সিটির সচিব আকরামুজ্জামানের সঞ্চালনায় বোর্ড সভায় করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। আর কাউন্সিলররা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
