উজবেকিস্তানে যৌথ বিনিয়োগে সার উৎপাদনের আলোচনা

উজবেকিস্তানের মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে দুই দেশের সরাসরি যোগাযোগের উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 July 2022, 05:24 PM
Updated : 29 July 2022, 05:24 PM

মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী জামশিদ আবদুরাখিমোভিচ খোদজায়েভ শুক্রবার বিকালে গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

জামশিদ উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্রের বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বেও আছেন।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম দুই পক্ষের আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের সরাসরি যোগাযোগের উপর জোর দিয়েছেন।

“তিনি বাংলাদেশের স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের উজবেকিস্তানে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সার কারখানা স্থাপন করতে উৎসাহিত করবেন।"

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে জোর দিয়েছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজার বিস্তৃত হচ্ছে। এই শিল্প হলে আমরা কৃষিপণ্য অন্য দেশে রপ্তানি করতে পারব।"

এসময় কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের প্রশংসা করেন উজবেকিস্তানের দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জামশিদ।

দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের তরুণ ও উদ্যোমী জনশক্তি রয়েছে। আমরা যদি একসাথে কাজ করি তাহলে দুই দেশের জন্য লাভজনক অনেকগুলো ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে পারব।"

দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক তাসখন্দ সফরের মধ্য দিয়ে যার ভিত্তি রচিত হয়েছিল। সেই সম্পর্ক সময়ের সাথে সাথে আরও মজবুত হয়েছে।"

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শাভকাত মিরজিওয়েভের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন দেশটির বিনিয়োগ ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী জামশিদ।

তিনি দুই দেশের দীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দেন। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূ্য়সী প্রশংসা করে তাদের মাথা পিছু আয়ের কথাও তুলে ধরেন।

জামশিদ বলেন, "তার দেশ চায় বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে। সিআইএসভুক্ত (কমনওয়েলথ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেট) দেশগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য উজবেক একটি ভালো কেন্দ্র। "

ওষুধ এবং তথ্য-প্রযুক্তি (আইসিটি) ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করার আগ্রহও প্রকাশ করে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ উজবেকিস্তানের সম্ভাবনাময় অংশীদার এবং সেটাকে আমরা কৌশলগত অংশীদারত্বে রুপান্তর করতে চাই। "

জামশিদ খোদজায়েভ বলেন, "বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ লোক ইউরোপ, আমেরিকায় ভ্রমণের জন্য যায়, তারা সিআইএস ভুক্ত দেশগুলোতেও ভ্রমণের জন্য যেতে পারে।"

বৈঠকে দ্বৈত কর পরিহারের বিষয়ে দুই পক্ষই একমত হয় বলে জানান ইহসানুল করিম।

এছাড়া উজবেকিস্তান ঢাকায় তাদের দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করার আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে উজবেকিস্তানের বিনিয়োগ ও বিদেশি বাণিজ্য বিষয়ক উপমন্ত্রী লাজিজ কুদরাতভ এবং বেসামরিক বিমান উপমন্ত্রী জাসুরবেক চোরিয়েভ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক