বিদ্যুৎ বিপর্যয় কষ্ট বাড়িয়েছে হাসপাতালের রোগীদের

হাসপাতালে অতি জরুরি সেবাগুলো জেনারেটরের বিদ্যুৎ দিয়ে চালানো হলেও ওয়ার্ডে থাকা রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Oct 2022, 02:01 PM
Updated : 4 Oct 2022, 02:01 PM

নানা সমস্যা নিয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে তাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে জেনারেটর দিয়ে অতি জরুরি সেবাগুলো চালিয়ে নেওয়া হলেও ওয়ার্ডগুলোতে বাতি জ্বলছে না, চলছে না পাখা। ফলে গরম রোগীদের কষ্ট বাড়িয়ে তুলছিল।

সন্ধ্যায় ঢাকার মহাখালীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে রোগীদের দুর্ভোগ।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের জেনারেটর দিয়ে জরুরি বিভাগ, অস্ত্রোপচার কক্ষ, আইসিইউতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে। তবে ওয়ার্ডে কোনো বাতি জ্বলছিল না, পাখাগুলোও নিশ্চল।

ওয়ার্ডে মোবাইলের বাতি কিংবা মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোর ব্যবস্থা করেছিলেন রোগীদের স্বজনরা। হাতপাখা, কাগজ দিয়ে বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন রোগীদের।

২০/২১ নম্বর ওয়ার্ডে ১২টি বৈদ্যুতিক পাখার মধ্যে তিনটি চলতে দেখা গেছে। বাতি সবগুলোও ছিল বন্ধ।

এই ওয়ার্ডে ভর্তি সাড়ে সাত বছর বয়সী ইমাম মাহাদী হাসপাতালের ফ্লোরে শুয়ে ছিলেন। তাকে একটি মোটা কাগজ দিয়ে বাতাস করছিলেন তার মা মরিয়ম।

মরিয়ম বলেন, দুপুরে বিদ্যুৎ যাওয়ার পর গরমের কারণে ইমাম মাহাদী বিছানায় থাকতে চাচ্ছে না। এজন্য ফ্লোরে শুইয়ে বাতাস করছেন তিনি।

“ছেলে অসুস্থ্, এরমধ্যে কারেন্ট নাই। এমন গরম যে সে সিটের উপরে থাকতে চায় না। এজন্য নিচে নামায়া বাতাস দিতাছি।”

ওই ওয়ার্ডের ভর্তি নুরুল ইসলাম নামে একজন রোগী অভিযোগ করেন, তিনটি মাত্র ফ্যান চলায় যেসব বেডের উপর ফ্যান রয়েছে, তারা মোটামুটি স্বস্তিতে আছেন। বাকিদের কষ্ট হচ্ছে।

“আমি অ্যাজমার রোগী। ঠাণ্ডা বা অনেক গরম দুইটা হইলেই আমার শ্বাসকষ্ট বাইড়া যায়। শ্বাসকষ্টে ঠিকমতো দম নিতে পারতেছি না। পোলারে পাডাইছি একটা চার্জার ফ্যান কিন্না আনতে।”

Also Read: বিদ্যুৎ কখন স্বাভাবিক হতে পারে, ধারণা দিলেন পলক

পাশের ওয়ার্ডের একজন রোগীর স্বজন সাঈদা বেগম বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর হাসপাতালের বাথরুমের সব বাতি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাথরুম ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

“মোবাইলের বাতি জ্বালাইয়া যাইতে হচ্ছে। মোবাইলই ধরুম, নাকি রোগীরে ধরুম, খুব ঝামেলা হয়ে গেছে।”

ওই হাসপাতালের ১১টি ওয়ার্ডের সবকটিতে একই অবস্থা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নার্স বলেন, বেলা ১টা থেকে জেনারেটর চলছে, তেল শেষের দিকে হওয়ায় জেনারেটর বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

“একটানা এতক্ষণ ধরে চলতেছে। আর কতক্ষণ চালানো যাবে জানি না।”

Also Read: বিদ্যুৎ বিপর্যয়: ডিজেলের জন্য পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন

দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটরের তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ডিজেল কিনতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে বিকাল থেকেই।

বক্ষব্যাধির পাশের জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট হাসপাতালের অবস্থা কিছুটা ভালো দেখা গেছে। সেখানে ওয়ার্ডে আলো আছে, তবে ফ্যান সব চলছিল না।

হাসপাতালের পঞ্চম তলার ১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ওই ওয়ার্ডের ১৮টি বিদ্যুতিক পাখার মধ্যে ৬টি চলছে। বাকিগুলো বন্ধ।

একজন রোগীর স্বজন সাব্বির বলেন, দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে রোগীদের।

“আমাদের রোগীর বেডের ওপর যে পাখা, সেটা বন্ধ। এমনিতেই গরমের সময়, কারেন্ট না থাকলে অসুস্থ মানুষের ভোগান্তি কী হতে পারে, বুঝতেই পারছেন।”

শেরে বাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালেও বেলা ৩টা থেকে বিদ্যুৎ নেই

বলে জানিয়েছেন সেখানে ভর্তি একজন রোগীর স্বজন মাসুম মিয়া।

তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অবস্থা ভয়াবহ, আমরা কোনো বাতাস পাচ্ছি না। লাইট জ্বলছে, তবে কোনো ফ্যান চলছে না।”

জাতীয় গ্রিডের একটি সঞ্চালন লাইনে বিভ্রাট দেখা দেওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহসহ দেশের বড় এলাকা দুপুর থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক