চলন্ত বাসে শিক্ষার্থীকে ‘যৌন নিপীড়ন’: জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চালক কারাগারে

একই মামলায় শুক্রবার চালকের সহকারী কাওসার আহম্মেদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 July 2022, 01:33 PM
Updated : 30 July 2022, 01:33 PM

ঢাকায় বিকাশ পরিবহনের চলন্ত বাসে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের মামলায় চালক মো. মাহবুবুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা আজিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হাসিবুজ্জামান আছিব। এর আগে বুধবার মাহবুবুরকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ হয়েছিল।

গত শুক্রবার একই মামলায় বাসচালকের সহকারী কাওসার আহম্মেদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার আরেক মহানগর হাকিম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টায় থাকা ওই শিক্ষার্থীর বাসা ঢাকার আজিমপুর এলাকায়। ২৪ জুলাই রাতে ধানমণ্ডি থেকে বাসায় যাওয়ার পথে বাসের ভেতর নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর তিনি ফেইসবুকে ঘটনাটি প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নজরে এলে পুলিশ ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে লালবাগ থানায় মেয়েটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

কুদরত-ই-খুদা বলেন, “ওই ছাত্রী সেদিন রাত পৌনে ৯টার দিকে ধানমণ্ডি থেকে আজিমপুরে যাওয়ার জন্য বিকাশ পরিবহনের বাসে ওঠেন। বাসে উঠে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন।

“এক পর্যায়ে তিনি অনুভব করেন, তার শরীরে কেউ হাত দিয়েছে। এরপর তাকিয়ে দেখেন, বাসে কোনো যাত্রী নেই এবং তার পাশের সিটে বাস চালকের সহকারী।”

বিপদ আঁচ করতে পেরে মেয়েটি হেলপারকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সিট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। বাসের হেলপার তখন তার মুখ চেপে ধরে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা কুদরত-ই-খুদা বলেন, “ধস্তধস্তির এক পর্যায়ে হেলপারকে সরিয়ে ওই তরুণী চালককে চিৎকার করে বাস থামাতে বলেন। কিন্তু চালক বাস না থামিয়ে দ্রুতগতিতে ইডেন কলেজের সামনে দিয়ে আজিমপুরের দিকে যেতে থাকেন।”

এক পর্যায়ে আজিমপুর গার্লস স্কুলের কাছে বাসের গতি কমে গেলে ওই ছাত্রী লাফ দিয়ে বাস থেকে নেমে যান বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

মামলা হওয়ার পর তদন্তে নেমে পুলিশ ক্লোজড সার্কিট (সিসি ক্যামেরা) ক্যামেরার ভিডিও দেখে বিকাশ পরিবহনের বাসটি শনাক্ত করে এবং চালক ও তার সহকারীকে গ্রেপ্তার করে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক