মিশরীয় বিমান ভাড়ায় ‘অনিয়ম’: বিমানের চার কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ

পাঁচ বছরে দেশের ১১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তদন্তে উঠে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Sept 2022, 02:54 PM
Updated : 20 Sept 2022, 02:54 PM

মিশর থেকে পুরনো দুটি উড়োজাহাজ ভাড়ায় হাজার কোটি টাকার বেশি অনিয়মের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চার কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এরা হলেন- বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রিন্সিপাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সাইফুল হক শাহ, এয়ার কনসালটেন্ট গোলাম সারওয়ার, বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের (বিএফসিসি) ম্যানেজার সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমেদ।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তারের সমন্বয়ে একটি দল।

এ বিষয়ে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চার কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম।

“তাদের বিরুদ্ধে মিশরীয় দুটি বিমান লিজ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।”

Also Read: মিশর থেকে ভাড়ায় আনা ২ বোয়িং চালিয়ে বিমানের ১১শ’ কোটি টাকা ক্ষতি

Also Read: মিশরের বোয়িং ভাড়া: জড়িতদের লিখিত বক্তব্য চায় সংসদীয় কমিটি

Also Read: বিপুল ক্ষতির পর মেয়াদের আগেই ফেরত যাচ্ছে ভাড়ায় আনা বোয়িং দুটো

২০১৪ সালে পাঁচ বছরের চুক্তিতে মিশরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর মডেলের দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

প্রথম বছর শেষেই দুটির এয়ারক্রাফটেরই ইঞ্জিন বিকল হয়। ইঞ্জিনগুলো প্রায় ১২-১৫ বছরের পুরানো এবং এর উড্ডয়ন যোগ্যতার মেয়াদকাল কম থাকায় ইঞ্জিনগুলো পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়।

পরববর্তীতে উড়োজাহাজ সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরও একটি ইঞ্জিন। দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় বাকি ইঞ্জিনটিও।

এতে পাঁচ বছরে দেশের এক হাজার ১১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তদন্তে উঠে এসেছে।

স্থায়ী কমিটির পাঠানো ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধানের নেমেছে বলে জানান সচিব মাহবুব হোসেন। একই অভিযোগে এর আগে সোমবার বিমানের প্রধান ইঞ্জিনিয়ারসহ আরও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এরা হলেন- প্রধান প্রকৌশলী এস এম সিদ্দিক, প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার এস এম হানিফ ও প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার দেব্শে চৌধুরী।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক