২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮ আশ্বিন ১৪৩৩

যাত্রাবাড়ীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ, স্বামীর সঙ্গে কলহের জেরে আত্মহত্যার দাবি

গৃহবধূর স্বামী বর্তমানে পলাতক।

যাত্রাবাড়ীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ, স্বামীর সঙ্গে কলহের জেরে আত্মহত্যার দাবি

ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 23 Sep 2026, 07:40 PM

Updated : 23 Sep 2026, 07:40 PM

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।

পরিবারের দাবি, স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে মানছুরা আক্তার মিনারা (২০) আত্মহত্যা করেছেন।

মিনারা চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার পূর্ব লাড়ায়া গ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে। তিনি যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইলের কোনাপাড়া এলাকায় স্বামী মোশারফ হোসেনের সঙ্গে থাকতেন। মিনারা আড়াই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মোশারফ হোসেনের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গণ্ডা ইউনিয়নে।

মিনারার বাবা মনির হোসেন বলেন, “ওর স্বামী একটি কার্টন ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। পাঁচ বছর আগে মোশারফের সঙ্গে মিনারার বিয়ে হয়ঢ। মিনারা নিজেও আগে ওই ফ্যাক্টরিতে কাজ করত। কিন্তু স্বামী মানা করায়, বর্তমানে সে কিছুই করত না। দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর পরকীয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।

“মঙ্গলবার সকালে মোশারফ কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে মিনারের ছোট বোনের সামনেই মোশারফ ওর গলা চেপে ধরে।”

মিনারার ছোট বোন মারিয়া বলেন, “সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমার বোন আর দুলাভাইয়ের প্রচণ্ড ঝগড়া হয়; একপর্যায়ে সেটা হাতাহাতিদের রূপ নেয়। আমি আর এক ভাবি তাদের মারামারি থামিয়ে দেই। তখন আমার দুলাভাই বাসা থেকে বের হয়ে যায়। সকাল আনুমানিক ১০ আর দিকে আমার বোন দৌড়ে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেক ডাকাডাকির পরেও কোন সাড়া না পেলে আমি বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানাই।

“তখন আমি আর ভাবি ছাড়া বাসায় কেউ ছিল না। আমার বাবাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে এসে দরজা ভেঙে দেখে আমার বোন ঘরের চালের অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। পরবর্তীতে বাড়িওয়ালার সহায়তায় ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশ এসে দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে।”

যাত্রাবাড়ী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “আমরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। বর্তমানে ওই গৃহবধূর স্বামী পলাতক রয়েছেন।