আপিলে সাহেদের জামিন বহাল, ৩ মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ

অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় সাহেদের তিন বছরের কারাদণ্ড হলে তিনি হাই কোর্টের একক বেঞ্চ থেকে জামিন পেয়েছিলেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Nov 2023, 07:13 AM
Updated : 27 Nov 2023, 07:13 AM

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তিন বছর সাজার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাই কোর্টের একটি একক বেঞ্চকে নির্দেশও দেওয়া হয়।

সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেয়।

এদিন সাহেদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের এ মামলায় সাহেদের তিন বছরের কারাদণ্ড হলে তিনি হাই কোর্টের একক বেঞ্চে রিভিশন করেন এবং একই সঙ্গে জামিন আবেদন করেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছিল বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের একক বেঞ্চ থেকে। পরে সেই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে দুদক।

সাহেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলার রায় আসে গত ২১ অগাস্ট। ওইদিন ঢাকার ৭ নম্বর বিশেষ জজ আদালত বিচারক প্রদীপ কুমার রায়ে সাহেদকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জারিমানা করা হয় তাকে। ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয় রায়ে।

২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তার নামে প্রতারণা, অনিয়মের নানা অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। পরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাহেদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়।

কারাগারে থাকাকালে ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর সম্পদের হিসাব চেয়ে সাহেদকে নোটিস পাঠায় দুদক। নোটিসে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে সম্পদের বিবরণী জমা দিতে বলা হয়। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়ায় অতিরিক্ত আরও ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়। সাহেদ এরপরও তা জমা দেননি।

এরপর সম্পদের হিসাব না দেওয়া এবং অবৈধভাবে এক কোটি ৬৯ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১ মার্চ মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি দুদক আদালতে অভিযোগপত্র  জমা দেয়। এরপর ১৭ জুলাই সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

সাহেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা হয়। এর মধ্যে অস্ত্র আইনের একটি মামলায় ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে একটি আদালত।

আরও পড়ুন

Also Read: সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় রিজেন্টের সাহেদের ৩ বছরের জেল

Also Read: আপিল বিভাগে রিজেন্টের সাহেদের জামিন প্রশ্নে শুনানি ১৬ অক্টোবর