রাজধানীতে বসছে আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা
মিরপুর ১৩ নম্বরের পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
পাহাড়ের খাবার ‘পাঁচন’, ‘বাঁশ কোড়ল’, লাকসু বা সমতলের ‘উতি’ এর মত আদিবাসীদের রন্ধনশিল্পের ঐতিহ্য ও তাদের উৎপাদিত শস্য নিয়ে রাজধানীতে বসতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘৫ম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা’।
মিরপুর ১৩ নম্বরের পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
উন্নয়ন সংগঠন ‘নাগরিক উদ্যোগ’ এবং ‘আদিবাসী সুহৃদ’ যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করছে। আগামী ৬ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন করবেন সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান। মেলাটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে রেন্সলি চাকমা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টল বরাদ্দের খবর প্রকাশের পর থেকে বেশ ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলের পাশাপাশি সমতলের মান্দি (গারো), মনিপুরী, সাঁওতাল ও রাখাইন সম্প্রদায়ের অনেক উদ্যোক্তা ইতিমধ্যে স্টল বুকিং দিয়েছেন। মেলায় বরাদ্দ দেওয়া স্টলগুলোর মধ্যে আদিবাসী নারী উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য রয়েছে।”
মেলার উদ্যোক্তারা বলছেন, আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালির তেল ও মশলামুক্ত বিভিন্ন জনপ্রিয় খাবার। এতে থাকছে পাহাড়িদের প্রিয় বাঁশ কোড়ল, কলাপাতায় রান্না করা ‘হেবাঙ’-সহ নানা পদের জুমিয়া সবজি এবং জনপ্রিয় খাবার ‘পাঁচন’।
এছাড়া সমতলের বৈচিত্র্যময় খাবারের পসরা নিয়ে হাজির হবেন মনিপুরী, গারো ও রাখাইনরা। এর মধ্যে রাখাইনরা নিয়ে আসছেন কালো ও সাদা বিন্নি চালের সুস্বাদু পিঠা এবং বাঙালিদের কাছেও সমাদৃত ‘মুন্ডি’। মেলার বিশেষ আকর্ষণ থাকবে বিভিন্ন ফলের তৈরি ঝাল আইটেম ‘লাকসু’।
অন্যদিকে মনিপুরী সম্প্রদায়ের স্টলে মিলবে ডালের তৈরি বিশেষ পদ ‘উতি’ এবং বিন্নি চাল ও দুধের ক্ষীর ‘সাঙ্গোম’। পাশাপাশি বিক্রি হবে জুমের বিষমুক্ত শাকসবজি, পাহাড়ি কলা, মধুপুরের আনারস, পেঁপে, কাপ্তাই হ্রদের মাছ, পাহাড়ি মধু ও বিভিন্ন জাতের শুঁটকি।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, “শহুরেদের আদিবাসীদের সমৃদ্ধ জুম কৃষি ও ভিন্ন স্বাদের খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার বাড়াতে এই আয়োজন। টানা পঞ্চম বছরের মত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মেলা ইতিমধ্যে রাজধানীবাসীর কাছে বেশ সমাদৃত হয়েছে।”
আয়োজক কমিটির সদস্য মেইনথিন প্রমীলা বলেন, “আমাদের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস। বাঙালি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মধ্যে মেলবন্ধন ঘটানো এবং বিষমুক্ত কৃষিপণ্যকে নগরবাসীর কাছে তুলে ধরাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
কেনাকাটা ও খাবারের পাশাপাশি প্রতি সন্ধ্যায় মেলায় থাকছে আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করবেন ‘বাংলাদেশ আইডল’ খ্যাত মং, বর্ষা চাকমা, বুলু তঞ্চঙ্গ্যা এবং গারো গায়ক মার্কুস চিসিম। এছাড়া থাকবে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনা।
