০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহত, কী ঘটেছিল সেখানে?

ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে তার ছেলে থাকার কথা উঠলেও তা অস্বীকার করেছেন ছিবগাত উল্লাহ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 01:59 AM

Updated : 02 Nov 2026, 01:59 AM

রাজধানীর পল্টনে সাবেক সিআইডি প্রধান অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহর গাড়ির ধাক্কায় এক রিকশাচালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে আহত ষাটোর্ধ্ব এ রিকশাচালকের সঙ্গে থাকা এক স্বজন মোবাইল ফোনে রোববার বলেছেন, সুলতানের গ্রামের বাড়ি জামালপুরে। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত আছেন।

ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে তার ছেলে থাকার কথা উঠলেও তা অস্বীকার করেছেন ছিবগাত উল্লাহ।

বিষয়টি এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় পুলিশও তা ‘খতিয়ে দেখার’ কথা বলছে। তবে তারা ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে’ ভুক্তভোগীর তরফে অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষা করার কথা বলেছে।

এ অবস্থায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িটি এবং দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া রিকশাটি থানা হেফাজতে থাকার তথ্য দিয়েছেন পল্টন থানার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম।

শনিবার রাত ৮টার দিকে পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকার একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত রিকশাচালক ৬০ বছর বয়সিয় সুলতান বর্তমানে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, ঘটনার সময় ছিবগাত উল্লাহর ছেলে গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন বলে তারা শুনতে পেয়েছিলেন।

পরদিন রোববার তিনি বলেন, তারা বিষয়টি এখনো ‘শতভাগ নিশ্চিত’ নন।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকের আসনে কাউকে না পাওয়ার কথা বলেছিল পুলিশ।

এ ঘটনায় ছিবগাত উল্লাহর ব্যক্তিগত গাড়িটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।

ঘটনার বিবরণে নাম প্রকাশ না করে পুলিশ সদস্যরা বলছেন, কালভার্ট রোডের একটি গলির ভেতরে পুলিশ কর্মকর্তা ছিবগাত উল্লাহর ছেলের বন্ধুর বাড়ি। সেই সুবাদে তার প্রায়ই সেখানে আসা-যাওয়া ছিল। শনিবার সন্ধ্যায়ও গাড়িতে করে ওই বাড়িতে এসেছিলেন, বাড়ির সামনে এসে নিচে পার্কিংয়ে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

পার্কিংয়ের জায়গাটি তুলনামূলক ছোট হওয়ায় গাড়িটি বাইরে থেকেই ঘুরিয়ে পেছনের দিক করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করছিল। সড়ক থেকে বাড়িটি কিছুটা উপরে, আর ওঠার জায়গাটা কিছুটা ঢালু।

গাড়িটি যখন পেছনের দিক হয়ে ওপরে উঠছিল, তখন বাসার বিপরীত পাশের দেয়াল ঘেঁসে একটি রিকশা দাঁড়ানো ছিল। সেটির সিটে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন চালক সুলতান।

পুলিশ কর্মকর্তা ছিবগাত উল্লাহর গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৯-৭০৭৭) ডিজিটাল সুইচের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

পুলিশের ধারণা, গাড়িটি পেছনে ঢাল বেয়ে ওপরে ওঠার সময় ‘ব্যাকে যাওয়ার’ সুইচে চাপ চাপ না দিয়ে ভুলে সামনে যাওয়ার সুইচে চাপ দিয়েছিলেন চালক। এরমধ্যে এক্সেলেটরে চাপ দিলে সজোরে গিয়ে সামনের দেয়াল ঘেঁসে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাটিকে ধাক্কা দিলে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক সুলতান গুরুতর আহত হন।

গাড়িটির চালকের আসনে কে ছিলেন জানতে চাইলে পল্টন থানার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা ৯৯৯ এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাইনি। আশেপাশের লোকজন বলেছে পুলিশ কর্মকর্তা ছিবগাত উল্লাহর ছেলে প্রায়ই সেই বাড়িতে যেতেন। তবে তিনি গাড়ি চালাতেন না, চালকই গাড়ি চালাতেন।”

তবে ঘটনার সময় চালকের আসনে কে ছিলেন, সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। বলেন, “আমাদের ধারণা ওনার ছেলে গাড়িতে ছিলেন না। গাড়ি থেকে নেমে বাড়িতে ঢুকে গেছেন আর চালকই গাড়িটি পার্ক করছিলেন।”

চালকের আসনে কে ছিলেন- এমন প্রশ্নে পল্টন থানা পুলিশের এক এসআই বলেন, "আমরা এখনো বিষয়টা নিশ্চিত না। গাড়ির নিয়মিত চালক থাকলে হয়তো সেই ভুলটি করতেন কি না, তাই এটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।”

শনিবার ঘটনার পরে পুলিশ গিয়ে চালককে পাননি এবং ওই কর্মকর্তার ছেলে যদি ওই বাসায় গিয়েও থাকেন, তিনি পুলিশের সামনে আসেননি।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনার পর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ছিবগাত উল্লাহ থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তার তরফে আহত রিকশাচালকের চিকিৎসা খরচসহ ক্ষতিপূরণ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

পরিদর্শক শফিকুল বলেন, “আহত রিকশাচালকের চিকিৎসা চলছে। তার ছেলের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। মামলা করবে কি না এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। চিকিৎসার ঝামেলা শেষে তিনি আসবেন বলে জানিয়েছেন। যদি মামলা করেন, সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।”

বাড়ির সামনে থাকা দুটি সিসিটিভি ক্যামেরার একটি অচল, আরেকটি অন্যদিকে ঘোরানো থাকায় ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি বলে ভাষ্য ওই পুলিশ কর্মকর্তার।

এ বিষয়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ছিবগাত উল্লাহ বলেন, “আমার ছেলেটা গাড়িতে ছিলই না। সে বাসায় উঠে গেছে, তাদের কি প্রোগ্রাম ছিল।”

চালকের আসনে সেটির নিয়মিত চালক আল আমিন ছিলেন বলে দাবি তার।

তিনি বলেন, “সেখানকার নিরাপত্তা কর্মীরা দেখেছে, আলআমিনই ছিল। তার একটা সেন্ডেলও গাড়িতে থেকে গেছে। সে পার্কিং করতে যাচ্ছিল, আর এই ঘটনা ঘটেছে। আমি পুলিশকে সবকিছু জানায়ে দিয়েছি।”

আহত রিকশাচালকের সম্পূর্ণ চিকিৎসাভার তিনি বহন করছেন জানিয়ে বলেন, “মানবিক দিক থেকে পুরো চিকিৎসার ভার আমরা বহন করছি, কেবিনও নেওয়া হয়েছে। তিনি আউট অব ডেঞ্জার।”