আত্মসাতের মামলায় আসামিদের অব্যাহতি: দুদক কর্মকর্তাকে তলব

আগামী সোমবার হাই কোর্টে হাজির হয়ে দুদকের উপ পরিচালক নুর হোসেন খানকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 August 2022, 04:02 PM
Updated : 4 August 2022, 04:02 PM

ঋণের নামে সোনালী ব্যাংকের ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৬৩ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের এক মামলার আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছে হাই কোর্ট।

আসামিদের অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে করা রিভিশন আবেদনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়তের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আগামী সোমবার হাই কোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে দুদকের উপ পরিচালক নুর হোসেন খানকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী গোলাম রহমান ভূইয়া। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম বায়েজীদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখার তৎকালীন সহকারী ব্যবস্থাপক মিরন মিয়া শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম আলতাফ হোসেন হাওলাদার, ঋণ নেওয়া প্রতিষ্ঠান মেলবা টেক্সটাইলস মিলসের চেয়ারম্যান মোরশেদ রাজ্জাক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকি আহমেদকে আসামি করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, আলতাফ হোসেন হাওলাদার ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রমনা করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক থাকাকালে নিয়ম লঙ্ঘন করে মেলবা টেক্সটাইলস মিলসকে ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৬৩ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে পরস্পর যোগসাজশে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন। ওই ঋণ সুদে ও আসলে ২১ কোটি ৫৯ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫৩ টাকা হয়।

পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় দুদক। কমিশনের নির্দেশে তৎকালীন উপ পরিচালক নূর হোসেন এ মামলাটি তদন্ত করেন। তিনি তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২৫ মে আসামিদের দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন।

শুনানি শেষে একই বছরের ৩০ জুন মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহত দেন ঢাকার মহানগর আদালকের একজন জ্যেষ্ঠ স্পেশাল জজ।

এ আদেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে ব্যাংকের পক্ষে রিভিশন করেন মামলার বাদী। এরপর এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ১৫ জুন হাই কোর্ট রুল জারি করে। রুলে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক