Published : 05 Jun 2025, 12:10 AM
কোরবানির ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ছেড়ে বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ।
ঈদের আগের শেষ কর্মদিবস বুধবার দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর তা আরও বাড়ে।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বলছেন, এবার সড়কপথে ভোগান্তি অন্য সময়ের চেয়ে কম। তবে শেষের দুদিন সড়কের অবস্থার ওপর নির্ভর করবে ঈদযাত্রা কেমন হল।
বুধবার বিকেলে তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো, তিব্বত, মহাখালী, আগারগাঁও, শ্যামলী, বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে টার্মিনালে যাওয়ার যানবাহনের অপেক্ষায় যাত্রীরা। নগর পরিবহনের যানবাহন কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে মানুষকে।
মহাখালীর আমতলী বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ইমরান হোসেন নামে একজন সেনাসদস্য।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ইমরান বলেন, কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে সকালে এসে মহাখালীতে ভাইয়ের বাসায় ছিলেন। রাতের ট্রেনে লালমনিরহাট যাবেন।
“কমলাপুর যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় আছি। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ধরে বাস আসছে না। যে কয়টা আসে তাতে প্রচণ্ড ভিড়।”
মহাখালী থেকে গাবতলী পর্যন্ত যাওয়ার পথে জাহাঙ্গীরগেট, বিজয় সরণি, আগারগাঁও, শ্যামলী, শিশুমেলা প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডেই লোকজনের ভিড় দেখা গেছে। শ্যামলী থেকে কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল হয়ে গাবতলী পর্যন্ত যানবাহনের চাপে যানজট সৃষ্টি হয়। এ কারণে অনেককেই হেঁটে টার্মিনালের দিকে যেতে দেখা গেছে।
কল্যাণপুর, মাজার রোডের বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন বাসের জন্য।
দিনাজপুরে যেতে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর থেকে কল্যাণপুরে এসেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সাড়ে ৭টায় বাস ছাড়ার কথা। একটু আগেই এসে বসে আছি। আমাদের ওই রুটে বাসের ভাড়া সাধারণত এক হাজার টাকা। কিন্তু আমি অনলাইনে গিয়ে ১২ শ টাকায় টিকেট কিনেছি।”
সিরাজগঞ্জ যেতে কল্যাণপুর এসেছেন ঢাকার একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আশরাফুল হক। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আগের টিকেট কেনা ছিল না। ৩টার দিকে এসেছি। ভালো কোনো পরিবহনের কোনো টিকেট নাই। পরে মাজার রোড, কল্যাণপুর ঘুরে একটি বাসের টিকেট কিনেছি। ভাড়া সাধারণত ৩৫০ টাকা, আজ ৫০০ টাকা নিয়েছে।”
এ বছর বেশিরভাগ পরিবহনের টিকেট আগেই অনলাইনে বা কাউন্টারে বিক্রি করা হয়েছে। এ কারণে আগে যারা টিকেট কেনেননি তারা একটু বিপাকে পড়েছেন।
নওগাঁ যাওয়ার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের টিকেট কিনতে কল্যাণপুর, মাজার রোডে ঘুরেছেন একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন। তবে টিকেট কিনতে পারেন তিনি।
ইমরান বলেন, “এবার বাড়ি যাওয়ার প্ল্যান ছিল না। আজই সিদ্ধান্ত হয়েছে বাড়ি যাওয়ার। স্ত্রী, ছোট সন্তানসহ যাব, এ কারণে এসি বাসের টিকেট পেলে ভালো হত। কিন্তু কাল বা পরশুর কোনো টিকেট এখনও পর্যন্ত পাইনি। চেষ্টায় আছি, দেখা যাক কী হয়।”

সনি পরিবহনের কাউন্টারের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে।
“অফিস ছুটির পর বা দুপুর পর্যন্ত অফিস করে অনেকে চলে এসেছেন। এ কারণে দুপুরের পর থেকে ভিড় বেড়েছে আমাদের কাউন্টারে। এ বছর রোজার ঈদের চেয়ে এবার যাত্রীর চাপ বেশি।”
এ বছর সড়কে যানজট আগের বছরগুলোর তুলনায় কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন বাসের চালকরা।
বগুড়ার রুটের মানিক পরিবহনের বাসের চালক নয়ন মিয়া বলেন, বুধবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সড়কে যানজট খুব একটা ছিল না।
“কাল রাত ১১টায় রওনা দিয়ে ভোর সাড়ে ৫টায় বগুড়া পৌঁছে গেছি। সাধারণত এত কম সময়ে সেখানে যাওয়া যায় না। তবে আজ সাভারের দিকে যানজট আছে বলে শুনেছি।”
পাবনা রুটের সাফিন পরিবহনের বাসের চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “গতকাল পর্যন্ত কোনো যানজট ছিল না। রেগুলার যে টাইমে পাবনা পৌঁছাই, কালও সেই সময়েই পৌঁছেছি। আজ কিছুক্ষণ আগে আমার আগের গাড়ি ছেড়ে গেছে। ওই গাড়ির ড্রাইভার বলল সাভার থেকে নাকি জ্যাম শুরু হয়েছে।”
বাংলাদেশ বাস, ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বুধবার পর্যন্ত সড়কে খুব একটা যানজট ছিল না। তবে বিকেলের পর নবীনগরে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

“এ বছর সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী বেশ ভালো ভূমিকা পালন করেছেন। তবে সব জায়গায় উনারা যেতে পারেন না, এ কারণে কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আজও নবীনগর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যানজট তৈরি হয়েছে। শুনেছি সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেদিকে গেছেন, যানজট হয়ত ঠিক হয়ে যাবে।”
বুধবার সন্ধ্যায় সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়নি। পরিবহনকর্মীরা বলছেন, বুধবার যাত্রীদের খুব বেশি ভিড় হয়নি, বৃহস্পতিবার চাপ বাড়তে পারে।
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং বাইরের কাউন্টার থেকে ছেড়ে যাওয়া হানিফ, শ্যামলী, ইউনিকসহ বিভিন্ন ভালো পরিবহনের বাসের টিকেট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। আগে যারা টিকেট কিনতে পারেননি তারা ভিড় করছেন বিভিন্ন কাউন্টারে।
পিরোজপুরের যাত্রী হাসিবুর রহমান বলেন, “এবারে গাড়ির টিকেট পাওয়া নিয়ে একটু ভোগান্তি হয়ে গেছে। আমি বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে গেছি। ভালো পরিবহনের বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। আগে থেকেই বুক হয়ে গেছে। যে বাসের টিকেট পেয়েছি সেগুলো খুব ভালো না।”
হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারের টিকেট বিক্রয়কর্মী নাজমুল হোসেন বলেন, “আজ এখনও খুব চাপ নেই। হয়ত কাল যাত্রীদের চাপ বাড়বে। আর হানিফ, শ্যামলীর মত ভালো পরিবহনের বাসের টিকেট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন ব্যানারের বাসের টিকেট এখনও আছে। সেগুলোর দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। কারণ তাদের ফেরার সময় খালি আসতে হয়।”
আগামী ৭ জুন বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। এবার ঈদের আগে-পরে মিলিয়ে টানা ১০ দিনের ছুটিতে পড়েছে দেশ। লম্বা ছুটিতে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন।