Published : 23 Sep 2025, 10:53 AM
দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
স্থানীয় সময় সোমবার রাতে নিউ ইয়র্কের একটি হোটেলে তাদের সাক্ষাৎ হয়। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে এদিনই নিউ ইয়র্কে পৌঁছান অধ্যাপক ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীরা।
বাসস লিখেছে, প্রধান উপদেষ্টা দিদারুলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি এ পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি সম্মাননা হিসেবে একটি ক্রেস্ট তুলে দেন।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন দিদারুল ইসলামের বাবা মোহাম্মদ আবদুর রব, মা মিনারা বেগম, দুই ছেলে আহিয়ান ইসলাম ও আজহান ইসলাম, ভাই কামরুল হাসান, ভাইয়ের ছেলে আদিয়ান হাসান, বোন নাদিমা বেগম ও চাচা আহমেদ জামাল উদ্দিন।

প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনিম জারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
৩৬ বছর বয়সী দিদারুল ইসলাম গত ২৮ জুলাই পার্ক অ্যাভিনিউয়ের ৪৪ তলা বিল্ডিংয়ের লবিতে কর্মরত ছিলেন। এ সময় লাস ভেগাসের ২৭ বছর বয়সী শেন তামুরা সেখানে ঢুকে একটি সেমি-অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে গুলি চালায়।
তামুরা এক নিরাপত্তা প্রহরী ও দুই বেসামরিক ব্যক্তিকেও গুলি করেন। এরপর তিনি আত্মঘাতী হন। তিনি ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) সদর দপ্তরকে নিশানা করতে চেয়েছিলেন। ওই ভবনেই এনএফএল দপ্তর, কিন্তু তামুরা ভুল এলিভেটরে ঢুকে পড়েছিলেন।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “পত্রিকায় ঘটনাটি পড়েছি। পড়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না কীভাবে হলো। টিভিতে দেখেছি, নিউ ইয়র্কে তার শেষ বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছিল।
“বহু মানুষের শোক-শ্রদ্ধা-ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। নিউ ইয়র্কে আসার পরিকল্পনার মধ্যেই আমাদের মনে হয়েছে, অবশ্যই আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে হবে।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, দিদারুল ইসলাম নিউ ইয়র্ক পুলিশের একজন দায়িত্বশীল ও প্রশংসিত কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ২০২১ সালে পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। ব্রঙ্কসের ৪৭ নম্বর প্রিসিঙ্কটে তিনি কর্মরত ছিলেন।
নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, দিদারুল পুলিশ বিভাগের অনুমতি নিয়ে ইউনিফর্মে সেই ভবনে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দিদারুল ইসলামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কাজ করে আসছিলেন। তিনি সেখানে মা-বাবা, দুই ছেলে ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। মৃত্যুর পর তার ঘরে আরেক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে।