Published : 21 Jun 2026, 08:19 PM
বরিশাল নগরীতে পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে পালাতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে।
রোববার দুপুরে নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত মোহাম্মদ রাশেদ খান মেনন নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তার ছেলে সাহেল খান বলেন, “দুপুরে নামাজ পড়ে বাসায় এলে মা বলেন, পুলিশ এসেছে। আমি যেন ঘরে থাকি। বাবা বাইরে গেছেন।
“তার কিছুক্ষণ পর শুনতে পাই, বাবা পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছেন। তাকে প্রথমে বেসরকারি আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের জেলা কমিটির এক নেতা বলেন, “দুপুরে ওই নেতার বাসায় পুলিশ অভিযান চালায়। তখন তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে বাড়ির প্রাচীর টপকে গোরস্থানে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে আরেকটি বাড়ির প্রাচীর টপকে রাস্তায় এসে পড়ে যান। হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।”

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এক ফেইসবুকে স্ট্যাটাসে বলেছেন, “পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে গিয়ে পালানোর সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাশেদ খান মেননের মৃত্যু হয়েছে।”
বরিশাল মহানগর পুলিশের কাউনিয়া থানার ওসি সনজিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, “কোতোয়ালী মডেল থানার একটি রাজনৈতিক মামলার আসামি রাশেদ খান মেনন। তাই তার বিষয়ে খোঁজ নিতে পুলিশের একটি দল বাসায় গিয়েছিল। কিন্তু তাকে না পেয়ে চলে এসেছে। এরপর কী হয়েছে তা আমরা জানি না।”
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার জুয়েল চন্দ্র শীল বলেন, “হাসপাতালে নিয়ে আসা একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। স্বজনরা লাশ নিয়ে গেছেন। বিষয়টি কোতোয়ালী মডেল থানায় অবহিত করা হয়েছে।”
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “রাশেদ খানের হার্টে দুটি রিং বসানো ছিল। রাস্তায় পড়ে গিয়ে তিনি মারা গিয়েছেন। স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।”