Published : 11 Jan 2026, 11:25 PM
ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাসা থেকে স্কুলপড়ুয়া কিশোরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এ ঘটনায় করা মামলায় এজাহার রোববার আদালতে গেছে, সেখানে ফাতেমা আক্তার নিলি নামের ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধারের বর্ণনা রয়েছে।
অজ্ঞাতনামা এক বা একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা বলা হলেও মামলায় সন্দেহভাজন কারো নাম নেই।
নিলির পরিবারের সন্দেহ, তাদের হোটেলের এক কর্মচারী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে, কারণ সিসিটিভি ভিডিওতে তাকে নিলির লাশ উদ্ধারের আগে বাসায় ঢুকতে দেখা গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক (রাজু) বলছে, নিলির পরিবারের সদস্যরা যাকে সন্দেহ করছে, তাকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানা যেতে পারে।
শনিবার বিকালে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১৭ ব্ছরে এই কিশোরী রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনার সময় তার বাবা-মা ও ভাই গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে ছিলেন। বড় বোন শোভা আক্তার দুপুরে ব্যায়াম করতে করতে জিমে গিয়েছিলেন।
শোভা ফিরে এসে বোনের গলাকাটা মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন।

এ ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা করেন নিলির বাবা মো. সজিব।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ মামলার এজাহার গ্রহণ করেন।
আদালত আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. মারুফুজ্জামান।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, বাসার সামনে শাহজালাল হোটেল নামে একটি খাবারের হোটেল আছে নিলির বাবার। কর্মচারী দিয়ে সজিব এবং তার ছেলে শাকিল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। শোভা ও নিলিকে বাসায় রেখে স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে গত ৭ জানুয়ারি জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য হবিগঞ্জ যান সজিব।
ঘটনার দিন অর্থাৎ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে শোভা জিম সেন্টারে যান। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বাসায় ফিরে এসে রান্না ঘরের মেঝেতে নিলিকে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকার আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পুলিশকে খবর দিলে তারা লাশ উদ্ধার করে।
‘পূর্ব শত্রুতার’ জেরে অজ্ঞাতনামা এক বা একাধিক আসামি নিলিকে খুন করেছে বলে অভিযোগ করেন সজিব।
রাত ৯টার দিকে নিলির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তখন নিলির লাশ নিয়ে হবিগঞ্জ বাড়ির পথে তার পরিবার।
তার ভাই শাকিল বলেন, “আমার বোন শোভা তাকে বাসায় রেখে জিমে যান। ফিরে এসে লাশ পান। সিসিটিভি ভিডিওতে আমাদের হোটেলের কর্মচারী মিলন হোসেনকে বাসায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। সেই আমার বোনকে খুন করেছে। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
মিলনের বাড়ি বাগেরহাট। তবে কোন থানা, ইউনিয়ন বা গ্রামে তার বাড়ি তা বলতে পারেননি শাকিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই রাজু বলেন, মিলনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
“ইতোমধ্যে তার বড় মগবাজারের বাসায় অভিযান চালানো হলেও সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
খুনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “দুই বিষয় সামনে রেখে মামলার তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগী কিশোরী, ১৬/১৭ বছর বয়স। মিলনকে দেখে মনে হয়েছে মাদকাসক্ত। হয়তো ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে বাসায় ঢুকেছিল। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে খুন করেছে। অন্যথায় তার বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক দেখে ফেলায় হয়তো এ হত্যাকাণ্ড ঘটনা ঘটেছে।”
সিসিটিভি ভিডিওর বরাতে এসআই রাজু বলেন, “নিশ্চিত, মিলনই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সে তো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার করতে পারলে খুনের আসল রহস্য উদঘাটন হবে। আশা করছি, দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।”