Published : 03 Sep 2025, 04:18 PM
জুলাই আন্দোলনের সময় গুলশানে ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী পারভেজ বেপারী হত্যা মামলায় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমানকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমান এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশনের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই সামিউল ইসলাম অভিনেতা সিদ্দিকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। সামিউল এ রিমান্ড আবেদন করেন গত ২৪ অগাস্ট।
এদিন রিমান্ড শুনানির জন্য সিদ্দিককে তোলা হয় আদালতে।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন সিদ্দিকের রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।
আসামি পক্ষে সিদ্দিকের আইনজীবী এস.এম. শরীফুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, “তিনি একজন নাট্যকর্মী। দীর্ঘদিন নাট্যাঙ্গনের সাথে জড়িত। ভালো অভিনয় করেন। অনেকে তাকে পছন্দ করে। একটি দলের হয়ে নমিনেশন চেয়েছিলেন। কোনো দলের সাথে জড়িত না। পোস্ট পদবী নেই। তার বিরুদ্ধে দুইটা মামলা করা হয়। একটা মামলায় (হত্যাচেষ্টা) উচ্চ আদালতে থেকে তিনি জামিন পেয়েছেন। তার রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করছি।”
শুনানি শেষে আদালত সিদ্দিকের তিনদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
সিদ্দিককে রিমান্ডে নেওয়ার পাঁচটি কারণ দেখানো হয়।
সেখানে বলা হয়, “এ আসামি অত্যন্ত সুকৌশলে শাহজাদপুরের সুবাস্তু নগরভ্যালির সামনে উপস্থিত থেকে অর্থের যোগান দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতাকে নিবৃত্ত করার জন্য এ ঘটনা ঘটায়। এজাহারনামীয় ২২৩ নম্বর আসামি হওয়ায় তার নেতৃত্বে এ মামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
“মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ, এজাহারনামীয় পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা, ঘটনার অর্থের যোগানদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের তথ্য সংগ্রহ ও তাদের গ্রেপ্তার, ওই ঘটনায় নেতৃত্বদানকারীদের তথ্য সংগ্রহ ও তাদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনায় অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।”
গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে বেইলি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু যুবক সিদ্দিককে আটক করে। তাকে মারধর করে রমনা মডেল থানায় সোপর্দ করে।
পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে রমনা মডেল থানা পুলিশ। জুলাই আন্দোলনের সময় গুলশানে ভ্যান চালক জব্বার আলী হাওলাদার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
৭ মে রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২০ অগাস্ট তাকে পারভেজ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরে নতুন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলশান থানাধীন সুবাস্তু নগরভ্যালির সামনে বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ফার্নিচার কর্মচারী পারভেজ বেপারী। জুমার নামাজের পর আসামিদের ছোড়া গুলিতে আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পারভেজের বাবা মো. সবুজ গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন