Published : 10 Aug 2025, 11:32 AM
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশের জন্য অন্তত ৪০ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা (বডিক্যাম) কেনার পরিকল্পনা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
শনিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখশ চৌধুরী ও ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ৪০ হাজার বডিক্যাম কেনার প্রক্রিয়া ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে। এই যন্ত্রগুলো হাজার হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা আরও ‘শক্তিশালী’ করবে।
“আমাদের লক্ষ্য অক্টোবরের মধ্যে বডিক্যাম সংগ্রহ করা, যাতে পুলিশ কর্মকর্তারা এগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য—বিশেষ করে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সুবিধা সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।”
ক্যামেরা সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জার্মানি, চীন ও থাইল্যান্ডের তিনটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবলরা বুকে এই ক্যামেরা পরে থাকবেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের দ্রুত এই ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং হাজার হাজার পুলিশ সদস্যের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “যে খরচই হোক না কেন, আমাদের সব ভোটকেন্দ্রে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে স্বচ্ছ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে পরিণত করা।”
বাংলাদেশে পুলিশকে প্রথম বডিক্যাম দেওয়া হয় ২০১৪ সালে। প্রথমে ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং পরে ট্রাফিক পুলিশকে এই ক্যামেরা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন জেলায় ট্রাফিক সার্জেন্টরা এই ক্যামেরা পান।
ক্যামেরাটি দায়িত্বরত পুলিশের বুকে কিংবা কপালে লাগানো থাকে। যে কোনো অভিযান, চেকপোস্টে তল্লাশি এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিউটিতে পুলিশ সদস্যদের পোশাকের সঙ্গে থাকা লাইভ ক্যামেরা কাজ করে। পুলিশ সদর দপ্তরের মনিটরিং সেল এসব ক্যামেরা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং মনিটর করে।
প্রধান উপদেষ্টার টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী আগামী নির্বাচনের জন্য একটি ‘ইলেকশন অ্যাপ’ চালুর পরিকল্পনা বৈঠকে উপস্থাপন করেন।
অ্যাপটিতে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য থাকবে, যার মধ্যে প্রার্থীদের পরিচিতি, ভোটকেন্দ্রের হালনাগাদ তথ্য এবং অভিযোগ জানানোর জন্য ইন্টারেক্টিভ সুবিধা থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের অ্যাপটি দ্রুত চালু করতে এবং দেশের ১০ কোটির বেশি ভোটারের জন্য ব্যবহারবান্ধব করতে নির্দেশ দেন।
এর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ’ নামে একটি অ্যাপ চালু করে তখনকার নির্বাচন কমিশন। সেই অ্যাপ এখনো চালু আছে, তবে সব বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য নেই।
বডিক্যাম কেনা এবং নতুন ‘ইলেকশন অ্যাপ’ চালুর জন্য কত টাকা কীভাবে খরচ হবে, সে তথ্য সরকারের তরফ থেকে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।