Published : 13 Apr 2026, 06:44 PM
খোলা চিঠি দিয়ে নিজেদের ‘বিদায়ের’ বার্তা দিয়ে গেলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও চার সদস্য।
এক সদস্য বলেছেন, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত যে অধ্যাদেশের বলে দুই মাস আগে তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, সংসদে সেটি বাতিল হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তাদের নিয়োগ বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। তারা এমনটাই ভাবছেন।
তবে সরকারের তরফ থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি, বলেন তিনি।
সোমবার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য নূর খান, শরিফুল ইসলাম, ইলিরা দেওয়ান ও নাবিলা ইদ্রিসের স্বাক্ষরে জনতা ও সরকারের উদ্দেশে এই খোলা চিঠি দেওয়া হয়।
সে চিঠিতে পদত্যাগের বিষয়ে কিছু বলা না হলেও চিঠির শুরুতে দ্বিতীয় প্যারাতেই নিজেদের ‘সদ্য বিদায়ী মানবাধিকার কমিশনার’ বলেছেন কমিশন সদস্যরা।
আপনারা কী তাহলে পদত্যাগ করেছেন? জবাবে কমিশনের সদস্য নূর খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পদত্যাগের প্রশ্নটা কেন আসছে। খোলা চিঠিতে পদত্যাগের কোনো বিষয়ই আনিনি। খোলা চিঠিতে যে সমস্ত কথা সংসদে আলোচনা হয়েছে, আমরা সেটার ব্যাখ্যা দিয়েছি।”
তিনি বলেন, “আমরা পদত্যাগ করিনি ও সরকারও আমাদের পদত্যাগ করতে বলেনি। তবে যে আইনের বলে আমরা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছি সেটা যেহেতু রহিত হয়েছে (সংসদে বিল পাস) তাহলে তো আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেই।
“এটা যদিও এখনো পরিষ্কার নয়। আমরা খোলা চিঠিটা দিয়েছি জনগণ ও সরকারের উদ্দেশ্যে।”
২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের নভেম্বরে তৎকালীন মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা একযোগে পদত্যাগ করেন। কোনো চাপের মুখে তারা পদত্যাগ করলেন কি না, তা নিয়ে তখন আলোচনা ছিল।

দীর্ঘ বিরতির পর গেল বছর ৩০ অক্টোবর এখতিয়ার ও কাজের পরিধি বাড়িয়ে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫’ অনুমোদন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
এরপর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কমিশন পুনর্গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
কমিশনের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ সদস্যদের আরও দুজন ছিলেন আলোচিত গুম কমিশনের সদস্য। তারা হলেন নূর খান ও নাবিলা ইদ্রিস।
বৃহস্পতিবার বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
এর ফলে এই কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে বলে তারা বলছেন। তবে খোলা চিঠিতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি।
খোলা চিঠিতে কী আছে
খোলা চিঠির তিনটি অংশ। একটি অংশে কমিশন সদস্যরা সংসদে উপস্থাপিত ‘ভুল তথ্যে’র জবাব দিয়েছেন, অধ্যাদেশগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের প্রকৃত আপত্তি চিহ্নিতকরণ বিষয়ে আরেকটি অংশ রয়েছে এবং ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান বিচারের প্রস্তাব রয়েছে আরেকটি অংশে।
চিঠির শেষ দিকে বলা হয়েছে, “এই আলোচনায় বোঝা যায় যে সরকারের অবস্থানে একটি মৌলিক অন্তর্দ্বন্দ্ব আছে। একদিকে বলা হচ্ছে, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী আইন প্রণীত হবে। অন্যদিকে বিশেষ সংসদীয় কমিটি কর্তৃক নথিভুক্ত সরকারের প্রকৃত আপত্তিগুলো মানলে, অনিবার্যভাবে পুনর্বহালকৃত ২০০৯ আইনের মত দুর্বল আইন তৈরি হবে, যা জন্মলগ্ন থেকে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ।”
পুরনো খবর:
মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল, ফিরছে আওয়ামী লীগ আমলের আইন