Published : 09 Apr 2026, 12:44 PM
বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এর আগে বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তার আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
বিলটি পাস হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নতুন করে কার্যকর হচ্ছে।
বিল উত্থাপনের বিরোধিতা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আজকে যারা সরকারি বেঞ্চ রয়েছেন তারা চব্বিশের জুলাইয়ের আগে হলে এই বিল পাসের বিরোধিতা করত।”
তার ভাষায়, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ ‘ল্যাপস’ করানো হলে মানবাধিকার কমিশনকে আবারও ‘রাজনৈতিক দমনপীড়নের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নিই না। এটা এই বছর পাস না করি, আগামী বছর পাস না করি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে হয়ত ল্যাপস করা যাবে। কিন্তু এই সংসদে জাতীয় মানবাধিকর কমিশন অবশ্যই পাস হবেই হবে।”
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত বলেন, এ আইন নিয়ে আলোচনার জন্য যে সময় দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়।
“এই পুরো জার্নির পেছনে যে আইনটি জড়িত তা নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করছি। এটার আলোচনার জন্য দুই মিনিট সময় অপ্রতুল। সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে, প্রশংসা, অন্য বিষয়ে অনেক সময় অপচয় হয়, কিন্তু জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ…। মাননীয় স্পিকারের কাছে অনুরোধ করব, এই সময় সীমাবদ্ধতা না রেখে সময় যেন বাড়িয়ে দেওয়া হয়।”
জবাবে স্পিকার বলেন, অতীতে এ ধরনের বিষয়ে দুই মিনিট করে সময় দেওয়ার নজির আছে। তবে পরে তিনি হাসনাতকে আরও দুই মিনিট সময় দেন।
সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানও এ বিষয়ে আরও সময় দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, বিষয়টি “স্বচ্ছ রাজনীতি ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।”
২০০৯ সালের আইনের সমালোচনা
হাসনাত আবদুল্লাহর মূল আপত্তি ছিল ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইনের কাঠামো ও অতীত প্রয়োগ নিয়ে।
তার দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর ওই আইনের প্রয়োগে মানবাধিকার কমিশন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ না করে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে।
তিনি বলেন, “জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বিরোধী দল ও মতকে দমন কমিশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা মানবাধিকার কমিশন উৎপাদন করেছে।”
জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বলতে শুনেছি, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের গুলি করা মানবাধিকার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বৈধ।”
তার ভাষায়, ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া মানে সংস্কারের পথে এগোনোর বদলে পিছিয়ে যাওয়া।
“আমরা যদি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০০৯ এ যদি চলে যাই, আজকে যদি ২০২৫ এর অধ্যাদেশকে ল্যাপস করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা যে ফরওয়ার্ডিং মুভে ছিলাম, সেখান থেকে জাতি আবারো ব্যাকওয়ার্ডে যাবে। জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি টেক্সটবুক এক্সাম্পল হিসেবে এই সংসদে এটি থাকবে।”
নিয়োগ কাঠামো নিয়েও আপত্তি
কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি তোলেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত।
তার দাবি, ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটিতে সরকারের প্রভাবই বেশি থাকে।
হাসনাত বলেন, “২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আদতে কোনো আইন নয়, এটি সরকারি আরেকটি দপ্তর বানানো হয়েছিল। সেখানে স্পিকারের নেতৃত্বে যে সিলেকশন কমিটি করা হয়েছে, সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সরকার দলীয় এমপি ও একজন সচিব থাকেন। ৬ সদস্য বিশিষ্ট বোর্ডের ৫ জনই সরকার দলীয়।”
তিনি বলেন, আইনটির ‘আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা’ হচ্ছে, বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে গেলে আগে সেই বাহিনী বা সরকারের অনুমতি নিতে হয়।
“সরকার যে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করবে, সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে সেই মানবাধিকারের তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হবে তা এই সংসদের প্রতিটি সদস্য জানেন।”
বিডিআর, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর বিরুদ্ধে অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রসঙ্গও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত এই আইন কেবল একটি একক আইনগত প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে গুম অধ্যাদেশ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দায়মুক্তির অধ্যাদেশের ‘রাজনৈতিক ও নীতিগত সম্পর্ক’ রয়েছে।
“২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন ল্যাপস করার মধ্য দিয়ে আদতে বাকি দুটি অধ্যাদেশকে অর্নামেন্টাল করে ফেলা হবে। সরকার পরবর্তীতে এই অধ্যাদেশকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না সেটার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
সময়ের ফেরে সরকারি ও বিরোধী বেঞ্চের অবস্থান বদলের প্রসঙ্গও টেনে আনেন হাসনাত। তিনি বলেন, “আজকে যদি ২০২৪ সালের মে মাস হত, আর এই বিল (অধ্যাদেশ) যদি উত্থাপন হত, তাহলে এই সংসদে এমন কোন সদস্য নেই যে এর বিরোধিতা করত।”
তার ভাষায়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়াতেই বিএনপির অবস্থান বদলে গেছে।
“২০০৮ সাল, ২০১৮ সালে আপনারা এই পাশে ছিলেন। আজকে আপনারা ওই পাশে (সরকারি দলে) গিয়েছেন। সংখ্যা গরিষ্ঠ হয়েছেন। আজকে এই বিলের (অধ্যাদেশ) বিরুদ্ধে আপনারা অবস্থান নিয়েছেন। চব্বিশ সালের জুলাইয়ের আগের কোনো মাসে, ফেব্রুয়ারি-জানুয়ারি-মার্চ… তৎকালীন ফ্যাসিবাদ সময়কালে যদি ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি এই সংসদে তোলা হত, সবাই চাইতেন বিলটি যেন পাস করা হয়।”
সংসদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করায় ২০০৯ সালের পুরনো আইন পুনর্বহালের পথ তৈরি হল। অর্থাৎ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনগত ভিত্তি আবার ২০০৯ সালের কাঠামোতে ফিরে যাচ্ছে।
বিলে যা আছে
বিলে বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন হওয়ায় ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করা হচ্ছে।
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) আইন, ২০২৬’ শিরোনামের এই বিলে বলা হয়, আইনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর ২ ধারায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের মাধ্যমে রহিত হওয়া ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন একই নম্বর ও একই সনের আইন হিসেবে পুনঃপ্রচলিত হবে।
আর ৩ ধারায় ২০২৪ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং একই বছরের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ রহিত করার কথা বলা হয়েছে।
তবে ওই ধারায় এটাও বলা আছে, রহিত হওয়া অধ্যাদেশগুলোর অধীনে আগে যেসব কাজ করা হয়েছে বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বৈধ বলেই গণ্য হবে।
বিলের সঙ্গে যুক্ত ‘উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতি’তে বলা হয়েছে, মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং যথাযথভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন করা হয়েছিল।
পরে ২০২৪ সালের ১৬ নম্বর অধ্যাদেশের মাধ্যমে তাতে কিছু সংশোধন আনা হয়।
এরপর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ওই আইন রহিত করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয় এবং পরে ২০২৫ সালের ৭৪ নম্বর অধ্যাদেশ দিয়ে সেই অধ্যাদেশেও সংশোধন আনা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আরও পরামর্শ গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। সে কারণেই ওই অধ্যাদেশ রহিত করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘শূন্যস্থান না রাখতেই’ পুরনো আইন
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশটি চূড়ান্তভাবে বাতিল করে পুরোনো কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার জন্য নয়, বরং আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রাখতেই ২০০৯ সালের আইন আপাতত পুনঃপ্রচলন করা হচ্ছে।
“বিলের শুরুতেই বলা আছে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি ‘সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সহিত অধিকতর পরামর্শ যাচাই বাছাই’ সাপেক্ষ…।”
আইনমন্ত্রী বলেন, “মানবাধিকার কমিশনের জায়গাটা যেন অসম্পূর্ণ না থাকে, ফাঁকা না থাকে, সেই কারণে আপাতত আমরা ২০০৯ সালের আইনটাকে রেস্টোর করেছি, কেউ যাতে বলতে না পারে যে বাংলাদেশে কোনো মানবাধিকার কমিশন নাই।”
তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে এমন কিছু অস্পষ্টতা আছে, যা ভুক্তভোগীর জন্যও নতুন ধরনের ভোগান্তি তৈরি করতে পারে।
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা অভিযোগের ভিত্তিতে নিতে পারবে বলা হলেও, অভিযোগ নেওয়ার পর কতদিনের মধ্যে তা অনুসন্ধান বা তদন্তে পাঠাতে হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কতদিনে শেষ হবে, তারও সময়সীমা নেই। তদন্ত শেষে কমিশন জরিমানা, ক্ষতিপূরণ, মামলা করার সুপারিশ বা নিজে বাদী হয়ে মামলা করার মত পদক্ষেপ নিতে পারবে বলা হলেও, এসব ক্ষেত্রে কীভাবে তা কার্যকর হবে, আইনটিতে তার স্পষ্ট কাঠামো নেই।
“জরিমানা কত টাকা হবে, কীভাবে আদায় হবে, কোন আইনে হবে তার কোনো গাইডলাইন এখানে দেওয়া নাই। … ক্ষতিপূরণ কত টাকা হবে, কী পরিমাণ হবে, কী গাইডলাইন হবে, কীভাবে আদায় হবে, কার কাছে যাবে, তার কোনো গাইডলাইন এই আইনের মধ্যে নাই।”
আইনমন্ত্রী বলেন, তদন্ত ও শুনানি শেষে কমিশন যদি আবার নিজেই এক পক্ষের হয়ে মামলা করে, তাহলে তার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
“ক্যান ইট বি কলড এ নিউট্রাল ল? ক্যান ইট বি কলড জাস্ট অ্যান্ড প্রপার ল? এই প্রশ্নগুলো যখন আমাদের সামনে আসে … তখন আমাদেরকে বিলের প্রথম লাইনেই বলতে হয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সহিত অধিকতর পরামর্শ যাচাই বাছাই করা প্রয়োজন।”
গুম আইন নিয়েও ‘অস্পষ্টতা’র কথা
আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের সঙ্গে গুম-সংক্রান্ত আইনগত কাঠামোর সম্পর্ক ‘স্পষ্ট নয়’।
তার ভাষায়, গুম-আইনে তদন্তের দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের ওপর থাকলেও, আলাদা ‘গুম কমিশন’ গঠনের কোনো সুস্পষ্ট কাঠামো রাখা হয়নি। তাতে আইনি দ্ব্যর্থতা তৈরি হচ্ছে।
“আইনের এই অ্যামবিগুইটি থাকতে পারে না। আইন স্বচ্ছ হতে হবে। আইন পরিষ্কার হতে হবে।”
তার ভাষ্য, এ কারণেই আইনটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরামর্শের মধ্য দিয়ে নিতে হবে।
দুই আইনেই স্বায়ত্তশাসনের ধারা আছে, দাবি আইনমন্ত্রীর
বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের আইন ও ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ, দুই ক্ষেত্রেই কমিশনের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার ধারা আছে।
“২০০৯ আইনের সেকশন থ্রি যদি পড়েন আর ২০২৫ অধ্যাদেশের সেকশন থ্রি যদি পড়েন, দুইটা আইনেই নন অবস্ট্যান্টি ক্লজ আছে। দুইটা আইনেই বলা আছে এই কমিশন কোন কারো কাছে দায়বদ্ধ থাকবে না।”
তার ভাষায়, সরকার এমন একটি কাঠামোর দিকে এগোতে চায়, যেখানে কমিশনের ক্ষমতা থাকবে, একই সঙ্গে আইনের ত্রুটিও দূর হবে।
‘আর কোনো গুম-ক্রসফায়ার চাই না’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার সবচেয়ে বড় পরিবার হল জিয়া পরিবার।”
বর্তমান সরকারের সময়ে গুম বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
“এই সরকারের বয়স প্রায় ৪২ দিন হয়ে গেছে। এই সরকার চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারতেন। ৪২ দিনে বাংলাদেশের একটি মানুষও ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি। ৪২ দিনে একটি মানুষও গুমের শিকার হয়নি।”
সময় বণ্টন নিয়ে আপত্তি বিরোধী নেতার
বিলটি পাস হওয়ার পর বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান সময় বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি বলেন, যেসব বিলে ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলোতে বিরোধী সদস্যদের জন্য দুই মিনিট সময় রেখে আর উত্থাপনকারীদের জন্য দীর্ঘ সময় দিলে সংসদে কার্যকর বিতর্কের সুযোগ কমে যায়।
শফিকুর রহমান বলেন, “ডিবেট কোথায়? আমরা তো কোন ডিবেট দেখছি না এখানে। সেই ডিবেটের সুযোগ যদি না থাকে … আমরা যদি আমাদের কথাই বলতে না পারি, আমাদেরকে আমাদের কথা বলার সুযোগ দেন।”
জবাবে স্পিকার বলেন, অতীতের সংসদীয় নজির অনুযায়ী আপত্তি উত্থাপনের সময় সাধারণত দুই মিনিটই দেওয়া হত। তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সময় কিছুটা বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হবে।
স্পিকার বলেন, “যিনি আপত্তি উপস্থাপন করবেন তাকে সময় একটু বাড়িয়ে দেওয়া হবে।”