Published : 19 May 2026, 11:57 PM
বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে কর্মরত জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১৫ জন কর্মকর্তা ও বিচারককে আইন ও বিচার বিভাগে ফেরত নেওয়া হয়েছে।
তাদের মধ্যে ৯ জন জেলা ও দায়রা জজ, ২ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ এবং একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী জেলা জজ।
মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে তাদের মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিবসহ এসব কর্মকর্তাকে অন্য স্থানে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদে এ অধ্যাদেশ বাতিলের বিল পাস করে। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অধ্যাদেশের মাধ্যমে গঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হয়ে যায়। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়ের।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা তিনটি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে পাসের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। ফলে সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার আইনগত ভিত্তি হারিয়ে যায়।
এমন প্রেক্ষাপটে প্রজ্ঞাপনে বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানকে আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিলুপ্ত সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) শারমিন নিগার এবং অপর অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ হালিম উল্ল্যাহ চৌধুরীকেও সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া বিলুপ্ত সচিবালয়ের সাবেক সহকারী সচিব রুহুল আমীনকে সংযুক্ত কর্মকর্তা (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) হিসেবে মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করা হয়েছে।
মাসদার হোসেন মামলার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি হয়েছিল।
এরপর ১১ ডিসেম্বর সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ পৃথক সচিবালয়ের উদ্বোধন করেন। অধ্যাদেশ অনুযায়ী নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাজনিত সব বিষয় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অধীনে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
তবে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ রহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়।
সংসদে বিলটি পাসের সময় বিরোধী দল সদস্যরা এটিকে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে আপত্তি জানালেও আইনমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করেন আদালত আইন নিয়ে মত দিতে পারলেও আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত ক্ষমতা সংসদেরই।
রহিতকরণের এই আইন পাসের পর বিচারক নিয়োগ ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক সমস্ত কার্যক্রম আবার আগের পুরনো কাঠামোয় অর্থাৎ আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে গেছে।