Published : 16 Mar 2026, 09:20 PM
ঢাকার উত্তরায় রিকশাচালককে ‘হত্যার গুজব ছড়িয়ে’ একটি বিপণী বিতানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
সোমবার উত্তরা পশ্চিম থানায় পুলিশের করা এ মামলায় নাম না জানা ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান ওসি কাজী রফিক আহমেদ।
তিনি বলেন, "গতকাল রাতের ঘটনায় রিকশাচলাকরা আজও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করেন। আমাদের টিম মার্কেটের ওখানে মোতায়েন আছে। আমরা এ পর্যন্ত ১২ জনকে নিয়ে এসেছি, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি যাচাই-বাছাই করছি।"
তার ভাষ্য, "আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আমাদের একাধিক টিম জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।"
জিজ্ঞাসাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে আটক ১২ জনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।
তিনি বলেন, “আমরা মার্কেটের সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করছি।”
এসআই রুবেল মিয়া বলেন, সরকারি কাজে বাঁধা এবং পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মালিক পক্ষ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়ে আলাদা মামলা করবেন ব্যবসায়ীরা। একই তথ্য দিয়েছেন ওসি রফিকও।
রোববার রাতে ১১ নম্বর সেক্টরের ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং কমপ্লেক্স ঘেরাও করে বিক্ষুব্ধ রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা দফায় দফায় হামলা চালায়।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় মার্কেটের সামনে একটি রিকশা পার্কিংকে কেন্দ্র করে।

রিকশা থামিয়ে রাখলে সেখানকার নিরাপত্তাকর্মী রিকশাচালককে চলে যেতে বলেন। রিকশাচালক না গেল তার রিকশার পিছনে লাঠি দিয়ে বাড়ি মারেন নিরাপত্তাকর্মী।
এরপর একাধিক রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা সেখানে হট্টগোল করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে এলাকাবাসী ও রিকশাচালকরা মিলে ‘মব’ সৃষ্টি করে।
এরমধ্যে এক ‘রিকশা চালককে হত্যার গুজব ছড়িয়ে’ দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
ওসি কাজী রফিক আহমেদ বলেন, “রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ভুয়া। মব সৃষ্টি করে শপিং মলের মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে।”
ঘটনার পর সোমবার ওই বিপণী বিতানের সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এদিন ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নজরুল ইসলাম।
এ সময় তিনিও বলেন, “রিকশাচালককে মারধর করে শপিংমলের ভেতরে বেঁধে রাখার খবরটি সম্পূর্ণ গুজব। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
সংঘর্ষের সময় হামলায় পুলিশের ছয় সদস্য আহত হওয়ার তথ্যও দিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।