Published : 02 Jun 2026, 04:03 PM
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো ডেঙ্গু চিকিৎসার রোগীর ৮০ শতাংশ ব্যয় ‘বহন করবে’ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; আর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে বিনামূল্যে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ক্লিনিক ব্যয়ের ৮০ শতাংশ বহন করবে বেসরকারি চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ডাক্তারের ফিসও ফ্রি করা হয়েছে। রোগী বহন করবে ওষুধ ও খাদ্যসহ বাকি ২০ শতাংশ ব্যয়।
“আর সরকারি হাসপাতালে সব বিনামূল্যে দেওয়া হবে। বেসরকারি সব হাসপাতালে ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।”
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। কোনো বাসার ছাদ, আঙিনা বা আশপাশের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকলে এবং সেখানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রী জানিয়েছেন আগামী শনিবার থেকেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভ্যাকসিনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘এটি এখনও শতভাগ স্বীকৃত ও সার্বজনীন নয়। এ জন্য ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না। আরও পরীক্ষা ও পরামর্শ নেওয়া হবে।’’
তিনি বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ব্যর্থ হলে আমরা সবাই ব্যর্থ। দেশটাও ব্যর্থ। কাজেই আমরা কিছু না ত্যাগ করলে সফলতা আসবে না।”
গত বছর ডেঙ্গুর দাপট দেখা গেলেও চলতি বছরের এ পর্যন্ত মশাবাহিত এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কম। গত মার্চ ও এপ্রিলে ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। তার আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দু্জন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে নভেম্বর মাসে। সেই মাসে ১০৪ জনের প্রাণ যায়।