Published : 12 Jul 2025, 06:08 PM
অকাল মৃত্যু ঠেকাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করে তামাকবিরোধী ১৯টি সংগঠন।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে আইনটি সংশোধনের দাবি জানানো হয়।
সেখানে তামাক বিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞার হাসান শাহরিয়ার বলেন, “তামাক হৃদরোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ এবং দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্যই দায়ী এসব অসংক্রামক রোগ।
“শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ব্যতীত এসডিজির ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগে মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ হ্রাসের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন উপদেষ্টা কমিটি আইনটি পরিমার্জনের কাজ করছে। পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান বিলুপ্ত, বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য বা প্যাকেট প্রদর্শন নিষিদ্ধ, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, খুচরা বা খোলা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ, ই-সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসহ এ ধরনের সব পণ্য উৎপাদন, আমদানি, কেনাবেচা নিষিদ্ধ করাসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই খসড়ায়।
এসব বিধান সংবলিত সংশোধনী আইন যাতে দ্রুত আলোর মুখ দেখে তার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংস্কার ঠেকাতে কোম্পানিগুলো রাজস্ব হ্রাস, কর্মসংস্থান হারানো, ধূমপান বৃদ্ধি প্রভৃতি অসত্য তথ্য ছড়িয়ে নীতিনির্ধারকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।”
তামাক কোম্পানির ‘কূটকৌশলে’ বিভ্রান্ত না হয়ে দ্রুত আইন সংশোধনের দাবি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক।
অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা), এইড ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটি, বিসিসিপি, বিইআর, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ডাস্, ডর্প, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি, মানস, নারী মৈত্রী, নাটাব, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, পিপিআরসি, প্রত্যাশা, তাবিনাজ, টিসিআরসি, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট ও প্রজ্ঞা সম্মিলিতভাবে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।