Published : 20 Feb 2026, 12:34 AM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করার কর্মপরিকল্পনা নিচ্ছে এ এম এম নাসিরউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।
এই কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে কমিশন সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে, যা আগামী সপ্তাহে হতে পারে।
সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় শেরপুর-৩ আসনে ভোট ও বিএনপি চেয়ারম্যানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন বাকি রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার সিটি করপোরেশেন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ করে এবং প্রশাসক নিয়োগ দেয়। নির্বাচিতদের বেশিরভাগই ছিলেন আওয়ামী লীগের, অভ্যুত্থানের পর তারা আত্মগোপনে চলে যান।
এরইমধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদী স্থানীয় সরকারের কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, কিছু মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।
দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার দুই সিটি এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামে নির্বাচন হয়।
এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকেও ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রমজানের সময় ফেব্রুয়ারি-মার্চে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট শেষ করে উপনির্বাচন করা হবে। এরপরই এপ্রিল-জুনের দিকে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশনের ভোটের বিষয়ে চিন্তাভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, “ত্রয়োদশ সংসদের উপনির্বাচনের পর পরই স্থানীয় সরকারের সিটি ভোট হয়ে যাবে। স্থানীয় সরকারের জেলা, উপজেলা, পৌরসভার ভোটও রয়েছে। মেয়াদ বিবেচনায় ধাপে ধাপে নির্বাচন হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোট আগে হবে, এসব নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। কমিশন সভায় বসে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে।”
>> ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রথম সভা হয় ২০২০ সালের ২ জুন। ২০২৫ সালের ১ জুন এ সিটির মেয়াদ শেষ হয়।
>> ঢাকা উত্তর সিটির প্রথম সভা হয় ২০২০ সালের ৩ জুন। এ পরিষদের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের ২ জুন।
>> চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। সংস্থার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ফেব্রুয়ারির শুরুতে নির্বাচন কমিশন-ইসির কাছে চিঠি পাঠিয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ পাঁচ বছর। করপোশেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
আলাদা আলাদা চিঠিতে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করে সরকার।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা সিটি (সিটি করপোরেশন) নির্বাচনের বিষয়ে চিঠি পেয়েছি। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
“আমরা হয়তোবা আগামী সপ্তাহের মধ্যে কমিশনের সহকর্মীদের নিয়ে সিটির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করব। এবং সেই অনুযায়ী যথাশিগগির সম্ভব নির্ধারিত তারিখ এবং সময়ে ইনশাআল্লাহ আমরা আবার একটা সুন্দর নির্বাচন করবো।”
গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগের সময়ে নির্বাচিত চারটি স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অপসারণ করলেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের এখনও অপসারণ করা হয়নি। তবে তাদের অনেকেই কারাবন্দি, আবার অনেকেই এলাকাছাড়া।
>> অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ১২ সিটি করপোরেশন, ৩৩০ পৌরসভা, ৪৯৭ উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪ জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়।
>> বর্তমানে এসব পরিষদ প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পান শাহাদাত হোসেন।

এদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সরকার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন কবে হতে পারে? বুধবার অফিস শুরুর প্রথম দিনে সচিবালয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব, আমরা এগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। যত দ্রুত সম্ভব, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের আইনে সংশোধন এনে অধ্যাদেশ হয়েছে।
নির্বাচিত সরকার আসায় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে আইনে কোনো সংশোধন আনা হচ্ছে কিনা তাও দেখতে হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন আইন সংশোধন করে গত বছর ২৫ অগাস্ট এই অধ্যাদেশ জারির ফলে আগামীতে আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের আইনি সুযোগ নেই।

বিদ্যমান আইন-অধ্যাদেশ অনুসরণ করেই এগোবে ইসি। সংসদের উপনির্বাচন ও সংরক্ষিত আসনের ভোট শেষ করে স্থানীয় ভোটের সার্বিক বিষয়ে কমিশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্তের নেওয়ার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারও।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনে বসে সুবিধা-অসুবিধা, তারপরে ঈদের ছুটি, সামনে কোরবানির ঈদ, বর্ষা—সবকিছু মিলিয়েই আমরা একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করব।
“একটার পর একটা করতে গেলে ২০২৬ এর ভেতরে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব। সেক্ষেত্রে অবস্থা বুঝে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে।”
আগের খবর:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক, অধ্যাদেশ জারি
যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকারের ভোট: মন্ত্রী ফখরুল
এবার সিটি করপোরেশন-পৌরসভার কাউন্সিলরদের অপসারণ