Published : 13 Jan 2026, 03:55 PM
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ছয়জনের নামে থাকা ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৫ শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
শেয়ার অবরুদ্ধ হওয়া অপর পাঁচজন হলেন- ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক-ইউসিবির সাবেক পরিচালক আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি, মেঘনা ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ইমরানা জামান চৌধুরী, আবুল কাসেম, নাসিম উদ্দিন মোহাম্মদ আদিল ও উৎপল পাল।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।
‘চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও মুদ্রা পাচারের’ অভিযোগের অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় সিআইডির ফাইন্যান্সসিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড অর্গানাইজড বিভাগের এসআই নাফিজুর রহমান সাবেক মন্ত্রী জাবেদসহ এই ছয়জনের শেয়ার অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে ও সহযোগিতায় ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ও তারিখে ইউকে এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড থেকে ‘চাঁদাবাজি ও প্রতারণার’ মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা এবং ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও ‘সংঘবদ্ধ অপরাধের’ মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা অর্জন করেন।
সিআইডি বলছে, অর্জিত ৬০ কোটি টাকার প্রকৃত উৎস ‘গোপন’ করার জন্য ‘অবৈধভাবে’ বিদেশে পাঠিয়ে পুনরায় তা দেশে এনে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ‘স্থানান্তর’ করা হয়।
সে অর্থ দিয়ে ইমরানা জামান, উৎপল ও নাসিমের নামে মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনা হয়।
আবেদনে বলা হয়, প্রায় ২০ কোটি টাকার সমমূল্যের ইউএস ডলার আবুল কাসেমের মাধ্যমে ইউসিবির গুলশান কর্পোরেট শাখা এবং এনআরবিসি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার মাধ্যমে সিঙ্গাপুর ও দুবাই থেকে বাংলাদেশে আনা হয়।
পরবর্তীতে এসব টাকা নগদে উত্তোলন করে ইউসিবির চট্টগ্রামের স্টেশনে রোড শাখায় ইমরানা জামান চৌধুরীর একটি হিসাবে এবং একই ব্যাংকের বহদ্দারাহাট শাখায় স্ট্রিডফার্স্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেড নমের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের একটি হিসাবে জমা করা হয়।
স্ট্রিডফার্স্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব খোলার ফরম পর্যালোচনায় দেখা যায়, উৎপল পাল ওই কোম্পামির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও নাসিম উদ্দিন ডিরেক্টর হিসাবে রয়েছেন।
অনুসন্ধানের বরাতে সিআইডি বলেছে, উৎপল পাল ও নাসিম উদ্দিন দুইজনই সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের কর্মচারী। এছাড়া ইমরানা জামান চৌধুরী এবং স্ট্রিডফার্স্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেডের নামে থাকা এসব হিসাবে পে অর্ডারের মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা জমা করা হয়। জমাকৃত টাকা দিয়ে মেঘনা ব্যাংক পিএলসির শেয়ার কেনার জন্য কমিউনিটি ব্যাংক পিএলসি, গুলশান শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়। ওই হিসাবে ২০২২ সালের ১ অগাস্ট ও ২ অক্টোবর পর্যন্ত ইমরানা জামান ও স্ট্রিডফার্স্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেড থেকে মোট ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়।
সিআইডির আবেদনে বলা হয়, ওই টাকা দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন, অলক কুমার দাস ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসির (ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন) নামে থাকা মেঘনা ব্যাংক পিএলসি মোট ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ২০০ শেয়ার ইমরানা জামান চৌধুরী ও স্ট্রিডফার্স্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেডের নামে কেনা হয়।
আবেদনে বলা হয়, বর্তমানে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে মেঘনা ব্যাংকে শেয়ার রয়েছে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৫টি।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারে সাবেক মন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে ইউসিবির ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের এক মামলায় গেল ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দুদিন পর ৭ জানুয়ারি আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
সাবেক মন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে দুদকের দেওয়া ‘প্রথম’ অভিযোগপত্র এটি।
জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউসিবিএল ও আরামিট গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে এই মামলায়।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের’ মতো বিভিন্ন অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক বেশ কয়েকটি মামলা করেছে। গেল ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করার আদেশ দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত।