Published : 28 Jan 2026, 01:06 AM
সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আমলারা কেবল নিজেদের সুযোগ-সুবিধা ও ‘দুর্নীতির সুযোগ’ চান।
মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার (বিআরটিসি) প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তিনি।
সাবেক আমলা ফাওজুল কবির বলেন, “তারা (সরকারি কর্মকর্তা) চান তাদের সুযোগ-সুবিধা, পে স্কেল বাড়াতে হবে, তাদের দুর্নীতির সুযোগ বাড়াতে হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ গোল্লায় যাক, এটা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।”
অন্তর্বর্তী সরকারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি সরকারি দপ্তরের ওপর দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ।
সরকারের সচিব হিসেবে অবসরে যাওয়া ফাওজুল কবির বলেন, “আমাকে একজন বলেছিল যে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে যে বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে- এই বিমানটি মাইলস্টোনে না পড়ে সচিবালয়ের ওপরে পড়া উচিত ছিল। মানুষ এত ক্ষুব্ধ। শুধু সচিবালয় নয়, সরকারি প্রতিটি দপ্তরের ওপর জনগণ অনেক ক্ষুব্ধ।”
আমলারা কাজের কাজ কিছুই করছেন না অভিযোগ করে তিনি বলেন, “সবাই অফিসে আসেন-যান, গাড়িতে চড়েন। কিন্তু মানুষের জীবনের যে দৈনন্দিন সমস্যা, সেই বিষয়ে তাদের কোনো ইয়ে নেই। তারা শুধু চিঠি চালাচালি করেন। এই রুম থেকে ওই রুমে চিঠি যায়। সভা হয়, সমিতি হয়, লাঞ্চ হয়, স্ন্যাকস হয়, কিন্তু কাজের কাজটা কিছুই হয় না। যত কিছুই করার চেষ্টা করেছি, সবকিছুই আটকে আছে।”

আমলারা শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত- এমন মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, “সড়কের নীতিমালা আমি নিজে বসে ব্ল্যাকবোর্ডে দেখিয়ে সবকিছু বলে দিয়েছি যে এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। কিন্তু এখনো হচ্ছে না। কারণ তারা (কর্মকর্তারা) এর পরিবর্তন চান না।
“আমলাতন্ত্র একটি জগদ্দল পাথরের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা জনগণের বুকে চেপে বসে আছে। কিছুই করা যায় না এখানে। কোনো রকম মানবিক দায়িত্ববোধ আমাদের এই আমলাতন্ত্রে নেই।”
আমলাতন্ত্রকে দূষণে পেছনের দিক থেকে বাংলাদেশের প্রথম হওয়ার কারণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “এর কারণ হচ্ছে আমাদের আমলাতন্ত্র। আমলাতন্ত্রই আমাদের পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভাগ্য উন্নয়নে প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সরকারের মেয়াদ আছে আর ১৫ দিন। আমরা তো চলে যাব। কিন্তু সমস্যাগুলো তো যাবে না। সমস্যার সমাধান তো করতেই হবে।”
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় পেশাজীবী চালক ও শ্রমিকদের সচেতনতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এতে বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সড়ক পরিবহন ও সেতু বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদসহ কয়েকটি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।