Published : 14 May 2025, 01:05 AM
বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছেন এক দম্পতি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক তরুণী অভিযোগ তুলেছেন, চাকরিজীবী এ দম্পতির গৃহকর্মী তার বিড়ালকে রড দিয়ে পিটিয়েছেন।
এ ঘটনা ঘিরে প্রাণী অধিকারে সোচ্চার নেটিজেনরা ওই দম্পতির কর্মস্থল গ্রামীণফোন ও অ্যারিস্টোফার্মাকে যুক্ত করে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন।
দুটি কোম্পানিই মঙ্গলবার তাদের ফেইসবুক পেইজে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছে; প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়ার।
এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ না পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম।
ফেইসবুকে বিড়ালপ্রেমীদের গ্রুপ ‘ক্যাট সোসাইটি অব বাংলাদেশ’- এ সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ‘ইলমা ইলমা’ আইডি থেকে একটি পোস্ট আসে।
মঙ্গলবার ইলমার সেই পোস্ট এবং তিনি যা অভিযোগ করেছেন, সেগুলো ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণীপ্রেমী ও প্রাণী অধিকার নিয়ে সোচ্চারদের গ্রুপগুলোতে এই পোস্টের নিচে কমেন্টে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ওই দম্পতি।
মডেল ও অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত অনেক মুখ সেই পোস্ট শেয়ার করেন।
গ্রামীণফোন ও অ্যারিস্টোফার্মার কাছে ‘ব্যবস্থা’ নেওয়ার দাবিও তোলেন কেউ কেউ।
পোস্টে ইলমা লিখেছেন, “আজ (সোমবার) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে আমার ছোট ভাই স্কুল থেকে ফিরে এসে জানায়, সে একটি বিড়ালের চিৎকার শুনেছে। আমি দৌড়ে শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে ওপর তলায় গিয়ে দেখি আমার প্রতিবেশী কাজী হাসান মাহমুদ (ডেপুটি ডিরেক্টর, গ্রামীণফোন) এবং ফারহানা খানমের (কর্মকর্তা, অ্যারিস্টোফার্মা) ফ্ল্যাটের দরজা খোলা। আমি তাদের ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখি তাদের গৃহকর্মী মজিদা একটি সাদা বিড়ালকে লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে মারছে।
“আমি গিয়ে বিড়ালটিকে উদ্ধার করি এবং বুঝতে পারি, এটা আমারই বিড়াল। ৫ মাস বয়সী একটি ছোট মেয়ে বিড়াল, যাকে আমি কয়েক মাস আগে রাস্তা থেকে উদ্ধার করেছিলাম। বিড়ালটি বাসা থেকে বের হতো না, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সোমবার বেরিয়ে যায়।
তিনি পোস্টে বলেন, “গৃহকর্মী মজিদা একটি ধাতব রড দিয়ে বিড়ালটিকে মারছিল। আমি গিয়ে দেখি বিড়ালটি পড়ে রয়েছে, কাঁপছে এবং সাহায্যের জন্য কাঁদছে। সেটি তার শরীর নাড়াতে পারছে না, এটির নাক থেকে রক্ত ঝড়ছে।
“আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, বিড়ালটি মাত্র ১০ মিনিটের জন্য তাদের বাড়িতে গিয়েছিল এবং তারা আমার বাচ্চাটিকে (বিড়াল) প্রায় মেরেই ফেলেছিল।”
এ ঘটনায় অভিযুক্ত দম্পতিকে উচিত সাজা দিতে সহায়তার জন্য আহ্বান জানানো হয় ইলমার পোস্টে।
এরপর প্রাণীপ্রেমী নেটিজেনরা ওই দম্পতির ছবি, কর্মস্থলের পদবি পোস্ট করতে থাকেন।
এ বিষয়ে ইলমা বা ওই দম্পতির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়নি।
গ্রামীণফোনের জনসংযোগ বিভাগের কাছে ওই কর্মকর্তার যোগাযোগের নম্বর চাওয়া হয়েছিল। তারা দেয়নি।
তবে এ বিষয়ে গ্রামীণফোন একটি বক্তব্য পাঠায়, যেটি তাদের ফেইসবুক পেইজেও আছে।
অন্য একটি মাধ্যম থেকে ওই ব্যক্তির নাম্বার পাওয়া গেলেও সেটি সচল নেই।
এ বিষয়ে নিজেদের ভাষ্যে গ্রামীণফোন বলেছে, “গ্রামীণফোন সকল প্রাণীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। সম্প্রতি আমরা একটি পোষা প্রাণী ও আমাদের একজন কর্মীকে ঘিরে একটি ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছি।
“আমরা যে কোনো প্রাণীর প্রতি বিরূপ আচরণের কঠোর নিন্দা জানাই। ঘটনাটি আমরা দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কাজ করছি।”
নিজেদের ফেইসবুক পেইজে অ্যারিস্টোফার্মা বলেছে, তারা সবসময় সর্বোচ্চ নৈতিক মান বজায় রাখে এবং সকল জীবের মানবিক আচরণের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।
“আমাদের এক কর্মীর বিরুদ্ধে একটি পোষা প্রাণী আহত করার বিষয় নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো প্রাণীর প্রতি অসহনশীল আচরণ নিন্দনীয়। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।”