Published : 02 Nov 2025, 06:32 PM
পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনরত এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা সোমবার বিক্ষোভের ডাক দিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সড়ক ছেড়ে দিয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তারা সড়ক ছেড়ে দেন।
এর আগে দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলে শিক্ষকদের কদম ফোয়ারার সামনে আটকে দেয় পুলিশ। এরপর থেকে সেখানেই সড়ক আটকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন শিক্ষকরা। এর মধ্যে শিক্ষক প্রতিনিধিরা সচিবালয়ে যান কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে।
সন্ধ্যায় সচিবালয় থেকে আন্দোলনস্থলে ফিরে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, “আমাদের দাবি পাঁচটার— পাঁচটাই তারা মেনে নেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আছে। এর মধ্যে একটা দাবি সোমবার স্বাক্ষর হবে।
“এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো ১ হাজার ৮৯টি প্রতিষ্ঠানের ফাইল অনুমোদন হবে বলে জানানো হয়েছে।
“দুপুর থেকে শিক্ষকরা যে সড়ক আটকে আছেন, সেজন্য জনভোগান্তির দায়ভার রাষ্ট্রের। আমরা যখন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছি, তখন তারা সিদ্ধান্ত দেয়নি। আমরা কর্মসূচি শুরুর পর তারা সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এর দায়ভার রাষ্ট্রের।”
সোমবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করবেন জানিয়ে কাজী মোখলেছুর বলেন, “আমাদের দাবি যদি সরকার কর্মসূচি শুরুর আগে মেনে না নেয়, তাহলে কোনো জনদুর্ভোগ হলে আমাদের কোনো দায় নেই। আমরা এজন্য দায়ী না। এর দায়ভার রাষ্ট্রের।”
পরে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শামসুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সোমবার বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়ে আমার রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছি। তবে অবস্থান কর্মসূচি চলবে।”
সব এবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণসহ ৫ দাবিতে গত ১৩ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—
>> চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারির জাতীয়করণের ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
>>এমপিওভুক্তির জন্য কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ যে ১০৮৯টি প্রতিষ্ঠানের নথি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠিয়েছে তার দ্রুত অনুমোদন দিতে হবে।
>>অনুদানহীন স্বীকৃত এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর এমপিও আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।
>>প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় প্রাক-প্রাথমিক পদ সৃষ্টি করতে হবে।
>>এবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য আলাদা অধিদপ্তর স্থাপন করতে হবে।
ইসলামি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে যে শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, সেই আলিয়া মাদ্রাসা পদ্ধতিতে পঠন-পাঠন হয় এবতেদায়ী মাদ্রাসায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমমান এই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয় ১৯৮৪ সালে। এরপর চার দশক কেটে গেলেও শিক্ষকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
শিক্ষকরা বলছেন, তাদের অনেকেই কর্মজীবন শেষ করেছেন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই। অথচ ১৯৭৩ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হচ্ছে; ২০১৩ সালেও ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে আসা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকরা জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলেন দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর। এর মধ্যে তাদের এক পদযাত্রায় পুলিশ লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে।
বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের পিটুনির সেই ঘটনা আলোড়ন তোলে। তারই একপর্যায়ে গত ২৮ জানুয়ারি এবতেদায়ী মাদ্রাসাকে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের ঘোষণা দেন মাদ্রাসা অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম মাসুদুল হক। জাতীয়করণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথমে এমপিওভুক্তি করার কথা।