Published : 23 Sep 2025, 12:31 AM
দুইজন ব্যবসায়ীকে ভয় দেখিয়ে ৬০ কেটি টাকা ‘ঘুষ দিতে বাধ্য করার’ অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
এ মামলায় জাবেদের স্ত্রী ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক-ইউসিবি পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান রুকমিলা জামান, ব্যাংকটির সাবেক পরিচালক ও তাদের পারিবারিক কোম্পানি আরামিট গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ আটজনকে আসামির করা হয়েছে।
সোমবার দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. সজীব আহমেদ বাদী হয়ে সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা–১ এ মামলাটি দায়ের করেন।
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছেন।
জাবেদ-রুকমিলা দম্পতির বাইরে মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ইউসিবির সাবেক পরিচালক সৈয়দ কামরুজ্জামান, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ও আরামিট গ্রুপের এজিএম আবদুল আজিজ, ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ও আরামিট গ্রুপের এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মডেল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ও আরামিট গ্রুপের এও মোহাম্মদ মিছাবাহল আলম, লুসেন্ট ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহিদ ও রেডিয়াস ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ফরিদ উদ্দিন।
মামলায় তাদের বিরুদ্ধে বেস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আমিন আহম্মেদ এবং বেস্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের (বর্তমানে আইকনক্স সার্ভিসেস লিমিটেড) ব্যবস্থাপনা পরিচালক উম্মে কুলসুমের কাছ থেকে ‘ভয় দেখিয়ে ৬০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা ‘প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে ইউসিবিএল ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ’ শাখার গ্রাহক বেস্ট গ্রুপের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ৬০ কোটি টাকা ঘুষ আদায়ের পর ‘অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার এবং মানিলন্ডারিং’ করেছেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১৪ জুন বেস্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের নামে ৬০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। ২০২২ সালের ৬ জুলাই ইউসিবির ৪৭২তম বোর্ড সভায় ঋণ অনুমোদন পায়।
২০২২ সালের ১৬ জুন প্রথম কিস্তি হিসেবে ৫ কোটি টাকা ইউসিবি ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখায় জমা হলে সেদিনই সাবেক মন্ত্রী জাবেদের কর্মচারী ইউসিবি কর্পোরেট শাখা থেকে নগদ উত্তোলন করেন।
দ্বিতীয় কিস্তির ৫৫ কোটি টাকার মধ্যে ৫ কোটি টাকা বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন করা হয়। বাকি ৫০ কোটি টাকা জাবেদের নিয়ন্ত্রণাধীন বেনামী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে ‘স্থানান্তর’ করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানগুলো (ক্লাসিক ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং, রেডিয়াস ট্রেডিং, লুসেন্ট ট্রেডিং) থেকে পরবর্তীতে চেকের মাধ্যমে অর্থ ‘উত্তোলন বা পুনঃস্থানান্তর করা হয় এবং বিদেশে পাচার’ করা হয়।
দুদক বলছে, ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইউসিবির মালিক ও সাবেক পরিচালক ছিলেন। তিনি স্ত্রী রুকমিলা জামানকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান করে বেস্ট গ্রুপের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ঘুষ আদায় করেন। ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে তিনি সরাসরি উপস্থিত থেকে নির্দেশনা দিতেন এবং বোর্ড সভায় সভাপতিত্বও করতেন।
মামলার এজাহারে দুদক অভিযোগ করেছে, রুকমিলা জামানের একান্ত সচিব (পিএস) রঞ্জন কুমার দাসের মাধ্যমে ‘ঘুষের’ অর্থ গ্রহণ করা হয়। এ ঘটনায় আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও ‘সহযোগিতা’ করেছেন।
এইচ এম শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ওয়েল মার্ট লিমিটেড (টেক্সটাইল) নামের দুইটি কোম্পানির কাছ থেকে যথাক্রমে ৫৫ কোটি ও ২০ কোটি টাকা ‘ঘুষ’ গ্রহণের অভিযোগের সোমবার জাবেদের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করেছে দুদক।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক রুবেল হোসেন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে মামলা দুইটি করেছেন।
আরও পড়ুন:
'৭৫ কোটি টাকা ঘুষগ্রহণ': সাবেক মন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে দুদকের ২ মামলা