Published : 01 Jun 2026, 11:56 PM
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে সব সাক্ষীকে সমন পাঠিয়েছে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেছেন এ আদালতের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
সোমবার বিচারক ১৭ সাক্ষীকে সমন পাঠানোর আদেশ দেয় বলে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।
তিনি বলেন, মামলার অভিযোগপত্রে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তবে একজনের নাম এসেছে দুইবার। এজন্য সাক্ষী দিতে ১৭ জনকে সমন পাঠানো হয়েছে।
“মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। আসামিদের সোয়া ১০টার দিকে এজলাসে হাজির করতে বলা হয়েছে।”
যাদের সাক্ষী দিতে সমন জারি করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- মামলার বাদী রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা, সুরতহাল ও জব্দ তালিকার সাক্ষী মিজানুর রহমান লিটন, প্রত্যক্ষদর্শী শেখ আবু সামা, মনির হোসেন, মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম রাজু, মাহমুদা খাতুন, মনিরুজ্জামান শাহীন, পারভীন আক্তার, এসআই রাশেদুল ইসলাম, শরীফ মিয়া, রুমা আক্তার, পল্লবী থানার এসআই ইকবাল হোসেন, এএসআই ইসহাক আলী, ফরেনসিক ডিএনএ বিশেষজ্ঞ শুভাজয় বৈদ্য এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই মো. অহিদুজ্জামান।
এর আগে সোমবার এ মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই আদালত।
গত ১৯ মে দুপুরে রাজধানীর পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন।
পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ২ জনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন।
মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ওইদিনই বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন
আমি শুধু বাচ্চাটারে দুই টুকরো করেছি, ধর্ষণ করছে, মারছে ডলার: আদালতে সোহেল
রামিসা হত্যায় আরেকজনকে জড়িয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় সোহেল: পুলিশ