Published : 01 Jun 2026, 07:07 PM
পল্লবীর রামিসা হত্যার ঘটনায় বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং বিচারকাজ বিলম্বিত করতে আলোচিত এ মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আরেকজনের নাম এনেছেন বলে মনে করছে পুলিশ।
এ হত্যার তদন্তে গিয়ে ঘটনাস্থলে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছাড়া আর কারও অস্তিত্ব না পাওয়ার কথা আবারও বলেছে পুলিশ।
পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির মনে করেন কৌশলে নজর আরেক দিকে সরাতেই সোহেল এখন এসব কথা বলতে পারেন।
সোমবার আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় আলোচিত এ মামলার অভিযুক্ত সোহেল রানা চিৎকার করে বলতে থাকেন, শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছেন ডলার নামের আরেক ব্যক্তি।
তার ভাষ্য, তিনি শুধু রামিসাকে ‘দুই টুকরো’ করেছেন। ধর্ষণ ও হত্যা করেছে ডলার নামের মিরপুরের সেই ধনাঢ্য ব্যক্তি।
সোহেলের এ দাবির বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির বলেন, সেখানে সোহেল ও তার স্ত্রীর অস্তিত্বই পাওয়া গেছে তদন্তে। এখন বিচারকাজ বিলম্বিত ও বিভ্রান্ত করার জন্য সোহেল এসব কথা বলছেন।
ডলার নামে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব আছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্নভাবে নিশ্চিত হয়েছি ঘটনাস্থলে আর কেউ আসেনি। এখন সে (সোহেল) নিজেকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে এসব বলতে পারে। ও ভীষণ নৃশংস প্রকৃতির। একটা ছোট্ট শিশুকে কেটে টুকরো করে হত্যার পরও ওর মধ্যে কোনো অনুশোচনা এখনো আসেনি। যার কারণে ও খুব কৌশলে বিষয়টিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।”
গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের নিজেদের ভাড়া ফ্ল্যাটের পাশের ফ্ল্যাটে শিশু রামিসার কয়েক টুকরো লাশ পাওয়া যায়।
পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এ ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন।
এ ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রামিসাদের বাসায় গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন। এ ধারাবাহিকতায় পাঁচ দিন তদন্ত করে ২৪ মে এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পুলিশ।
সোমবার এ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকা মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
এজন্য এদিন সোহেলকে আদালতে নেওয়া হয়েছিল। আদালতের কাজ শেষে উপস্থিত আইনজীবি ও লোকজনের উদ্দেশে উচ্চস্বরে এ ঘটনার সঙ্গে আরেকজনের সম্পৃক্ততা কথা দাবি করে কথা বলতে শুরু করেন তিনি।
সোহেলের দাবি, “আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কাটছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দেন।”
তিনি বলতে থাকেন, মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ডলার তাকে ‘দুই লাখ টাকা’ দেওয়ার কথা বলেছিল। এসময় পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন।
আবার আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সোহেল সাংবাদিকদের উদ্দেশে জোরে জোরে বলতে থাকেন, মিরপুর-১১ নম্বর লাইনে বাড়ি ডলারের। রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার ‘মূল আসামি’ ওই ডলার।
“ধর্ষণ ডলার করছে, মারছেও ডলার। ওরে ধরেন আপনারা, সব পাবেন।”
তার ভাষ্য, “আমার স্ত্রী আমাকে সাহায্য করেনি। আমার স্ত্রীর কোনো দোষ নাই। দোষ ডলারের আছে। আমার দোষ আছে, ডলারেরও দোষ আছে। আমি অত অপরাধী না। আমি শুধু বাচ্চারে দুই টুকরো করছি। ধর্ষণ করছে ডলার, মারছেও ডলার।
“আমার কোনো ডিএনএ টেস্ট নেয়নি। অটোমেটিক নিয়ে নিছে। ডলার আমাকে দুই লাখ টাকা দিছে। ডলার অনেক ধনী লোক, টাকাওয়ালা।"
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির বলেন, “আমরা ভালোভাবে খোঁজ নিয়েছি। হত্যাকাণ্ডের স্থলে সোহেল ও তার স্ত্রী ছাড়া আর কারও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ওর স্ত্রীর সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। সেও আমাদের বলেছে সেখানে আর কেউ ছিল না।”
এখন ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য সোহেল নানা কথা বলছে দাবি করে ওসি বলেন, “সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আমাদের স্পষ্ট করেছে যে ঘটনাস্থলে তার স্বামী ছাড়া আর কেউ আসেনি। সে (সোহেল) এখন বিচারকাজকে বিলম্বিত করার জন্য বা ঘটনাটিকে অন্য দিকে নেওয়ার জন্য এসব করতে পারে।”
এ মামলায় ঘটনাস্থল থেকে সবরকম আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।
আমি শুধু বাচ্চাটারে দুই টুকরো করেছি, ধর্ষণ করছে, মারছে ডলার: আদালতে সোহেল