Published : 09 Mar 2026, 05:04 PM
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসায় নির্যাতনের দিনগুলো পেরিয়ে আসতে পারলেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না সেই শিশু গৃহকর্মীর।
সোমবার আদালতে শুনানিতে এসে সে সাংবাদিকদের বলেছে, বাসার সবাই তাকে যেভাবে নির্যাতন করত, সেইসব দৃশ্য এখনো তার স্বপ্নের মধ্যে ফিরে ফিরে আসে।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এ এদিন শিশুটির জিম্মার শুনানি হয়। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের আইন কর্মকর্তা ফাহমিদা আক্তার রিংকি শিশুটিকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়ার পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানি নিয়ে বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া শিশুটিকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।
শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, এক মাস ১০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল তার মেয়ে। এখনো পুরোপুরি সুস্থ না।
বিমানের এমডির বাসায় ‘নিয়মিত চুল ধরে টানার কারণে’ মেয়েটির ডান চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে; ডান পায়ের ব্যথা এখনো আছে। আরও চিকিৎসা লাগবে।
কোনো আপস হবে না জানিয়ে গোলাম মোস্তফা বলেন, "মামলা চলবে।"
শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় তার হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা গত ১ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথী, বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমের নামে মামলা করেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।
মামলায় বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর বাচ্চা দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়।
মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে মোস্তফা গত বছরের জুন মাসে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন তিনি।
এরপর আর মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে ‘দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মেয়েকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেন বীথি।
মোস্তফা মামলায় বলেছে, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম দেখতে পান। তার মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বীথি এর ‘সদুত্তর দিতে পারেননি’।
পরে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মেয়ে তাকে বলে, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হত। তাকে ‘মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছেঁকাও’ দেওয়া হত।