Published : 12 Aug 2025, 03:36 PM
অবিলম্বে শ্রম আইন সংশোধনের দাবি তুলেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। ১২ সংগঠনের এ মোর্চা চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে না দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল কাদের হাওলাদার বলেন, “আমাদের দাবি একটাই, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ৯ দফা ও ৩১ অগাস্টের মধ্যে শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রম আইন প্রণয়ন করতে হবে।
“শ্রম কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর লিজ দেওয়া যাবে না, করিডোর দেওয়া যাবে না। এই দাবি না মানলে আমরা স্কপ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
যুগ্ম সমন্বয়ক আহসান হাবিব বুলবুল বলেন, “আজকে এই সমাবেশ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করছি যে, সরকার যদি অনতিবিলম্বে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শ্রম উপদেষ্টা বরাবর এবং সারা দেশে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করব এবং সেপ্টেম্বর জুড়ে সারাদেশের বিভাগীয় শ্রমিক সমাবেশ শেষে আমরা অক্টোবরে ঢাকায় বৃহত্তর শ্রমিক সমাবেশ করতে বাধ্য হব।

“তার পরেও যদি সরকারের টনক না নড়ে, সেখানে থেকে আমরা প্রয়োজনে কঠোর (কর্মসূচি) ও ধর্মঘটে যেতে পারি। আমি আজকের সমাবেশের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করছি।”
শ্রমিকদের মানসম্মত মজুরি, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা না দেওয়া, করিডোর দেওয়ার অপতৎপরতা বন্ধ, স্থায়ী কাজে অস্থায়ী ও আউটসোর্সিং নিয়োগ বাতিল, বন্ধ কলকারখানা চালুসহ ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে এ সমাবেশ হয়।
সমাবেশের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্কপ নেতাকর্মীরা। মিছিলটি পল্টনে মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন বলেন, “আজকে সারাদেশের শ্রমিকদের যে অবস্থা, তারা অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টে আছে, তারা তাদের ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না। শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে।
“এই অবস্থা থেকে উত্তরণে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা দাবি জানাব, স্কপ যে ৯ দফা দাবি দিয়েছে তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে, আউটসোর্সিং বন্ধ করতে হবে।”

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, “এই বাংলাদেশ শ্রমিকদের রক্তে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে শ্রমিকের রক্ত ছিল, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও শ্রমিকের রক্ত ছিল। আজকে শ্রমিকরা ভালো নেই, তারা সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত।
“আমাদের শ্রম সচিবের কোনো বেতন বকেয়া নাই, শ্রম ভবনের কোনো কর্মকর্তার বেতন বকেয়া নাই; কিন্তু কলকারখানায় আমাদের শ্রমিকদের বেতন বকেয়া থাকে। কিন্তু কেনো পদক্ষেপ নাই। আমরা বলতে চাই, শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকা নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। স্কপের ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।”
স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের হাওলাদারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব বুলবুলের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা চৌধুরী আশিকুল আলম, সাইফুজ্জামান বাদশা, শামীম আরা, বাদল খান, নুর মোহাম্মদ আকন্দ।