Published : 18 Dec 2025, 06:54 PM
‘অবৈধ সম্পদ অর্জন’ ও ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ মিলিয়ে শত কোটি টাকার বেশি অনিয়মের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদনের তথ্য সাংবাদিকদের দেন। শিগগির আদালতে তা উপস্থাপন করার কথা বলেন তিনি।
দুদকের অনুমোদন পাওয়া অভিযোগপত্রে কামালের বিরুদ্ধে ২২ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন’ এবং নয়টি ব্যাংকের মাধ্যমে ৮৭ কোটি টাকার বেশি ‘সন্দেহজনক লেনদেনের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
কামালের ‘অনিয়মের’ সঙ্গে তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান, ছেলে শাফি মোদ্দাছির খান জ্যোতি এবং মেয়ে শাফিয়া তাসনিম খানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মামলার তদন্তে নেমে পাওয়ার দাবি করেছে সংস্থাটি।
জুলাই আন্দোলন দমাতে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের পাশাপাশি সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মনির হোসেনের বিরুদ্ধে গত ৯ অক্টোবর পাঁচটি মামলা করে দুদক। পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে করা মামলাতেও কামালকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে বদলি, পদোন্নতি ও জনবল নিয়োগে ‘সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নেওয়াসহ’ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলায় দুদকের অভিযোগ, তারা সবাই ‘অবৈধ টাকা-কড়ি ও সম্পদ অর্জনে যুক্ত’।
কামালের বিরুদ্ধে তদন্ত নেমে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুদক অনুমোদন পাওয়া অভিযোগপত্রে বলেছে, একজন মন্ত্রী হিসেবে তিনি ‘অসাধু উপায়ে, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২২ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ১৬২ টাকার ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন’ করেছেন।
এছাড়া তিনি ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৮৭ কোটি ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৩ টাকা লেনদেন করেছেন, যা ‘মানি লন্ডারিংয়ের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগপত্রে অভিযোগ করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, “দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে এসব অর্থ রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় কামাল ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গণআন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে। পরে তাকে ভারতের কলকাতায় দেখা গেছে বলে খবরে এসেছে। তার ছেলে জ্যোতি ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।
দুদকের মামলা ছাড়াও সরকার পতনের পর গত ১৪ অগাস্ট স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ কামালের সব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেয় আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউ। তারাও কামালের পরিবারের সন্দেহজনক লেনদেন তদন্ত করছে।
এছাড়া গণ আন্দোলন দমাতে একাধিক হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে কামালকে। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও মামলা ও অভিযোগ রয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর আসাদুজ্জামান, তার স্ত্রী ও মেয়েসহ ১০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।